
বর্তমান খবর,রংপুর ব্যুরো:
ঠোঁটে সামান্য জ্বরঠোসা থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত সাহাদুল ইসলাম (৫৫) অর্থাভাবে হোমিও চিকিৎসা করে স্বপ্নের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। প্রায় চার বছর আগে ঠোঁটে সামান্য জ্বরঠোসা হয়েছিল সাহাদুল ইসলামের। ধীরে ধীরে সেটি ফোঁড়ায় পরিণত হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও ভালো না হওয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রথমে আলসার ধরা পড়ে। পরে বায়োপসি করলে জানা যায়, তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসকরা তাকে দ্রæত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দিলেও দারিদ্র্যের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
বাঁচার জন্য টাকার অভাবে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করছে। মাসে মাত্র ৮০-৯০ টাকার হোমিও ঔষধ দিয়েই নামমাত্র চলছে সাহাদুল ইসলামের ক্যান্সারের চিকিৎসা। তবে এতদিনে তার মুখমন্ডলের প্রায় ৩০ শতাংশ পঁচে গেছে। এখনই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হলে, হয়ত তিনি আর বেশিদিন বাঁচবেন না। এ জন্য প্রয়োজন মানবিক সহায়তা।
সাহাদুল ইসলামের বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার দশগাঁ গ্রামে। তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। এক সময় গরুর দালালি করে সংসার চালালেও, অসুস্থতার পর তা আর সম্ভব হয়নি। বড় মেয়েকে ধারদেনা করে বিয়ে দিয়েছেন, আর ছোট মেয়ে পড়ছে নবম শ্রেণিতে। বর্তমানে তার স্ত্রী লাভলী বেগম অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ ও দিনমজুরির কাজ করে কোনো মতে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সংসারের সামান্য আয় হয় তা দিয়ে হোমিওপ্যাথি সান্তোনামূলক চিকিৎসা চলছে। উন্নত চিকিৎসার খরচ নির্বাহ করা তাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। সাহাদুল ইসলাম বলেন, মুখের এ অবস্থা হওয়ার পর থেকে বাড়ির বাইরে যেতে পারি না। ছোট বাচ্চারা আমাকে দেখে ভয় পায়। টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করতে পারছি না। ছোট মেয়েটা বড় হয়েছে। তাকে বিয়ে দিতে হবে।
আমি বাঁচতে চাই,ছোট মেয়েটার বিয়ে দিতে চাই। এ জন্য আমি সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি।
লাভলী বেগম বলেন,কিছু দিন আগে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে সাহায্যের জন্য গিয়েছিলাম। রিপোর্টগুলো ২০২১ সালের হওয়ায়,নতুন রিপোর্টসহ ডাক্তারি সার্টিফিকেট জমা দিলে তারা সাহায্যের ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, ডাক্তার দেখানোর মতো টাকাও তাদের কাছে নেই।
সাহাদুলের মেয়ে সামিয়া আক্তার সেতু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সবাই সবার বাবার সঙ্গে মার্কেটে যায়। কিন্তু টাকার অভাবে আমার বাবা’র চিকিৎসা করাতে পাচ্ছি না। আমি চাই আমার বাবা বেঁচে থাকুক। সবাই দয়া করে আমার বাবাকে বাঁচাতে সাহায্য করুন।