
বর্তমান খবর,কয়রা প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলায় ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেলে কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী’২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে উপজেলার নিজস্ব কার্যালয়ে কয়রা থানা আমীর মাওলানা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা জেলার সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান, খুলনা জেলা শুরা সদস্য মাওলানা এস এম আমিনুল ইসলাম।
বক্তব্যের শুরুতে সকলকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিঃস্বার্থভাবে দেশের কল্যাণে ইসলামী আন্দোলনকে মনে প্রাণে ধারণ করে কাজ করতে হবে। হারাম পথ পরিহার করে কুরআন হাদিসের আলোকে জীবন গড়তে হবে৷ সকলকে কুরআন বুঝে পড়ে ও সেই আলোকে জীবনযাপন করলে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি মিলবে। ইসলামী রাষ্ট্র বির্নিমানে আগামী জাতীয় নির্বাচনে হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি ভুলে গিয়ে আলেম-ওলামা, ছাত্র-যুবক, শ্রমিক-কৃষক, চাকরিজীবী সহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে ঐকবদ্ধ থাকতে হবে।
ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট ভঙ্গুর প্রশাসন ব্যবস্থাপনার সংস্কার,স্বৈরাচারী সরকারের প্রণীত সংবিধান সংস্কার দরকার। বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে অসৎ ও অযোগ্য লোক বসিয়ে দেশটাকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে। ৯০% মুসলিম দেশে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে জামায়াতে ইসলামী রাত দিন পরিশ্রম করছে। বিগত দিনে আমাদের দু’জন মন্ত্রীসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে খুন ও গুম করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার। কিন্তু বাংলার জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করতে গিয়ে জান ও মালের ত্যাগ, তাকওয়া, ধৈর্য, সততার পরিচয় দিয়ে দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এসময় তিনি দুনিয়ার জীবনে শান্তি ও পরকালে মুক্তি এবং আল্লাহকে বাংলার সার্বভৌমত্বের মালিক ও রাসুল (সা:) কে অনুসরণীয় নেতা মেনে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর পতাকা তলে মিলিত হতে সকলকে আহবান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কয়রা-পাইকগাছা ইসলামী আন্দোলনের দুর্বার ঘাটি। জাগতিক সব মোহ, স্বার্থ উপেক্ষা করে নিছক ইসলামী আন্দোলনকে ভালোবেসে সবাই জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে কুরআনের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সবাই ধৈর্য ধারণ ও শান্ত থেকে বিগত দিনের সমস্ত হানাহানি ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ কয়রা উপজেলাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করে দেশে ইসলামী সমাজ বির্নিমানে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কয়রা সদর ইউনিয়নের আমির মো. মিজানুর রহমান,বাঙালি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর,মহারাজপুর ইউনিয়নের আমীর মাওলানা আবু তাহের, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ সুজা উদ্দিন,বাঙালি ইউনিয়নের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম,খুলনা জেলা দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জি এম মুনায়েম বিল্লাহ, সাবেক জেলা সভাপতি জনাব রুহুল আমীন, সাবেক জেলা সভাপতি মুহা: হাফিজুর রহমান মন্টু, সাবেক জেলা সভাপতি স.ম আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক জেলা সভাপতি রুহুল কুদ্দুস, সাবেক জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা জেলা দক্ষিণ সহ সভাপতি ও কয়রা কপোতাক্ষ কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মাও. ওয়ালিউল্লাহ, সাবেক জেলা সভাপতি মাওলানা এস. এম আমিনুল ইসলাম, সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক ড. জি এম শফিকুল ইসলাম, খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর অফিস সহকারী মো: দিদারুল ইসলাম, কয়রা থানা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জনাব সামিউল, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ বিভাগের সভাপতি মোল্লা শাহাবুদ্দীন সহ কয়রা বাজার কমিটির সভাপতি সরদার জুলফিকার আলম প্রমুখ।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় অসংখ্য দায়িত্বশীল, সুশীল সমাজ, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।