ভোগান্তির বদলে স্বস্তি, এবারের ঈদযাত্রায় আরেক স্বপ্নের হাতছানি

প্রকাশিত: ৭:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২৫

বর্তমান খবর,ডেস্ক নিউজ :

ঈদে বাড়ির ফেরার টান মানুষের সহজাত। আর বাড়ি ফেরাই যেন ঈদ উৎসবের সবচেয়ে সেরা আনন্দ। বছরজুড়ে স্বপ্নেরা অপেক্ষা করে চেনা পথের বহুদূরে থাকা তাদের স্বপ্নপুরে যাওয়ার। স্বপ্নপুরে এইযাত্রা এই দেশের মানুষের জন্য খুব কমই নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক ছিল। প্লাটফর্মে হুড়োহুড়ি, সড়কে যানজট, গরমে রাস্তায় হাসফাঁসসহ নানান যন্ত্রণা বুকে চেপে বাড়ি যেতো স্বপ্নেরা। কিন্তু এবারের ঈদযাত্রা ভোগান্তির বদলে এনেছে স্বস্তি।

এবারের ঈদযাত্রায় কয়েকদিন ঈদের আগেই বাড়ি ফেরার আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। রেলস্টেশনে হুড়োহুড়ি নেই, বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ নেই, অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে কাউন্টারে বাকবিতণ্ডা নেই, লঞ্চঘাটে কুলি-মজুরদের টানাটানি নেই, সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে বাস-ট্রেন-লঞ্চ, সড়কে যানজট নেই। নির্দিষ্ট সময়ে নিরাপদে বাড়ি ফেরা এবার দিচ্ছে আরেক স্বপ্নের হাতছানি।

ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষরা যাত্রাপথে তাদের এইসব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন বাসস’র কাছে। লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনে লালমনিরহাটে যাওয়া আখি আক্তার বলেন, কমলাপুর থেকে ট্রেনে উঠে নিজের সিটে নিরাপদে বসতে পেরেছি। বগিতে কোনো ধাক্কাধাক্কি ছিল না। যা অন্যান্য সময়ের ঈদযাত্রার নিয়মিত অংশ ছিল। এবার যমুনা সেতু পার হতেও বসে থাকা লাগেনি। একেবারে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদে বাড়ি ফিরেছি।

কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, প্লাটফর্মগুলোতে ট্রেনের রেক রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেনগুলো প্লাটফর্মে আসছে। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেনগুলো ছেড়ে যাচ্ছে।

প্রবেশপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি নিরাপত্তা রয়েছে। প্লাটফর্মের ভিতর বিনা টিকিটে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। অতিরিক্ত যাত্রী না থাকায় প্লাটফর্মগুলোতে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়।

কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রী ওবায়দুর রহমান বলেন, আগে ট্রেন ছাড়তো সাড়ে দশটায়। সাড়ে দশটা বাজলেও প্লাটফর্মে দেখি ট্রেন নাই। এখন সাড়ে নয়টার দিকে ট্রেন এসে প্লাটফর্মে বসে থাকে। টিকিটবিহীন যাত্রী না থাকায় আমরা নিরাপদে বাড়ি যেতে পারছি। স্টেশনের ব্যবস্থাপনাও অনেক ভালো হয়েছে।

সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় আছে। কিন্তু চাপ নেই। যাত্রীদের সঙ্গে কাউন্টার কর্মীদের অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা করতে দেখা যায়নি। টার্মিনালগুলোতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-র মোবাইল কোর্ট, আইশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল, বাস মালিক সমিতির অভিযোগ কেন্দ্র ও হেল্পডেস্ক রয়েছে। কেউ বাড়তি ভাড়া আদায়, নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে মহাখালী বাস টার্মিনালে ডগ স্কোয়ার্ড দিয়ে বাসগুলোতে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়।

শেরপুরগামী বাসযাত্রী মাসুদ রানা বলেন, এবার আমরা খুব আরামে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। প্লাটফর্মে এসেই টিকিট কাটলাম। অন্যান্যবার টিকিটের জন্য অতিরিক্ত টাকা নিত।

এবার তা দেওয়া হচ্ছে না। বাসও নির্ধারিত সময়ে কাউন্টারে আসছে।

এদিকে সদরঘাট থেকে নৌ-রুটে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নির্ধারিত ভাড়া ও সময়ে লঞ্চগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। লঞ্চ ছাড়তে দেরি হলে ঘাটের নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যাপক তৎপর হতে দেখা যায়। লঞ্চের ডেকগুলোতে যাত্রীর ভিড় নেই। বরগুনাগামী এমভি রয়েল ক্রুজ লঞ্চের যাত্রী আমান উল্লাহ বলেন, বাসেও তাড়াতাড়ি যাওয়া যায়। কিন্তু আমরা লঞ্চে যেয়ে অভ্যস্ত। এবার লঞ্চে এতো ভীড় নেই। নিরাপদ ও আরামে বাড়ি যেতে পারবো।

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. শাহাদাত হোসেন বাসস’কে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রেলসেবা নিশ্চত করতে পারছি। স্টেশনে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, টিকিট চেক করছি। ট্রেন সবগুলো সময় মতো ছেড়ে যেতে পারছে। আমরা সবকিছু কঠোরভাবে মনিটরিং করছি।