মাহ্তাবুর রহমানঃ
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১৭তম দিনে দেশের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আগের দিন সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনার পর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আবহ তৈরি হয়। নিহতদের স্মরণে গায়েবানা জানাজা, শোক মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীরা ১৮ জুলাই সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন হল থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় স্থানে সমবেত হন। তারা নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং হামলা ও হত্যার বিচার দাবি করেন। শোক মিছিলগুলোতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, চাকরিপ্রত্যাশী এবং সাধারণ নাগরিকদেরও অংশ নিতে দেখা যায়।
১৬ জুলাইয়ের প্রাণহানির ঘটনায় সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রংপুরে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এর স্মরণে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন সরকার দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে আবাসিক হলগুলো খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমে এই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেন এবং হলে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। পরবর্তীতে প্রশাসনিক চাপ ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
দুপুরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা কফিন মিছিল বের করেন এবং নিহতদের স্মরণে প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেন। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থান নেয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা প্যারিস রোডে সমাবেশ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চুয়েটে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। সিলেট, কুমিল্লা, বরিশাল, খুলনা ও রংপুরেও শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে আসেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির খবর পাওয়া যায়।
সন্ধ্যার দিকে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি নিহতদের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের ঘোষণা দেন এবং শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। তবে আন্দোলনকারীরা জানান, কেবল তদন্তের ঘোষণা নয়, তারা নিহতদের বিচার এবং তাদের দাবির বাস্তবায়ন চান।
রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা সংবাদ সম্মেলন করে ১৮ জুলাই সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়। তারা বলেন, এটি নিহত শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বিচার আদায়ের কর্মসূচি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিনভর আন্দোলনের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা দেখা যায়। নিহত ও আহতদের ছবি, ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দেশ-বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সম্পাদক : এম কামাল কবীর 📧 m.kamalkabir62@gmail.com ✆ +৮৮০১৭১৪৯২৫৬০৬ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ হোল্ডিং নং ২ (৩য় তলা), রোড নং : ১, ব্লখ : খ,পি সি কালচার আদাবর,ঢাকা -১২০৭।
📧bartomankhobor@gmail.com ✆ +৮৮০১৮৮০১১৫৮৪৪
কপিরাইট @২০২৬, দৈনিক বর্তমান খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি ও দন্ডনীয় অপরাধ।