নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় ইমারত নির্মাণ আইন ও নগর পরিকল্পনা বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনুমোদনবিহীন বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই মাত্র ৩ কাঠা জমির ওপর ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে নেই পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা, নেই আইনানুগ নকশা অনুসরণের দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোহাম্মদপুরের বসিলা ৪০ ফিট রোডে এলপি গ্যাস ডিপোর পাশের বাড়ি নং-১২, রোড-৪০ ফিট, স্বপ্নধরা হাউজিং, বসিলা, ঢাকা-১২০৭ এলাকায় ভবনটির নির্মাণকাজ চলছে। ভবনটির ৯ তলার ছাদের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে ১০ তলার ছাদের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ভবনটির নিচের অংশ বাণিজ্যিক এবং উপরের অংশ আবাসিক ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে ভবনটিতে কোনো ধরনের গ্যারেজ বা পার্কিং সুবিধা রাখা হয়নি, যা নগর পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণ বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অভিযোগ রয়েছে, ভবনটির মালিক মোমিন রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, রাজউক এবং পল্টনে অবস্থিত একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে কথা বলেই ভবন নির্মাণ করছি। তবে অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো নথিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। বরং অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবেদককে পাল্টা হুমকিস্বরূপ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন এবং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ভবন নির্মাণে সিমেক্সের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এ নামের কাউকে আমি চিনি না এবং উল্লিখিত ভবনের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের নির্মিত কোনো প্রকল্পের বিষয়ে অভিযোগ থাকলে আমরা জবাব দেব, তবে অন্য কারও ভবন নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক উজ্জ্বল দেবনাথ জানান, ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য ভবন মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোহাম্মদপুর থানা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমরা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
রাজউকের অথোরাইজড অফিসার সাইদা ইসলাম বলেন, ভবনটির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজউকের পক্ষ থেকে একাধিকবার ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হলেও নির্মাণকাজ কীভাবে অব্যাহত রয়েছে? সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতায় নিরব কেন?
সম্পাদক : এম কামাল কবীর 📧 m.kamalkabir62@gmail.com ✆ +৮৮০১৭১৪৯২৫৬০৬ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ হোল্ডিং নং ২ (৩য় তলা), রোড নং : ১, ব্লখ : খ,পি সি কালচার আদাবর,ঢাকা -১২০৭।
📧bartomankhobor@gmail.com ✆ +৮৮০১৮৮০১১৫৮৪৪
কপিরাইট @২০২৬, দৈনিক বর্তমান খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি ও দন্ডনীয় অপরাধ।