মাহ্তাবুর রহমানঃ
জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ‘৩৩ জুলাই’ হিসেবে পরিচিত ২ আগস্ট সারা দেশে আন্দোলন নতুন গতি পায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজের পর দেশব্যাপী প্রার্থনা ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা থেকে বিভাগীয় শহর, জেলা সদর এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল আন্দোলন চলাকালে নিহতদের বিচার, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি, কারফিউ ও দমন-পীড়নের অবসান এবং ঘোষিত ৯ দফা বাস্তবায়ন।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে শুরু হওয়া গণমিছিল দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে অগ্রসর হয়। শাহবাগ, মিরপুর, উত্তরা, সায়েন্স ল্যাব, আফতাবনগরসহ বিভিন্ন এলাকায়ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যে কোথাও কোথাও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পৃথক কর্মসূচি পালন করেন। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শহীদদের স্মরণে প্রার্থনা, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। অনেক শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
রংপুর, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, নরসিংদী, বরিশাল, রাজশাহী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় ছাত্র-জনতার মিছিল বের হলে কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থানে টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহারের খবর পাওয়া যায়। কয়েকটি জেলায় প্রাণহানি ও শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনাও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
দিনব্যাপী আন্দোলনে শিক্ষক, চিকিৎসক, লেখক, কবি, শিল্পী, আইনজীবী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা প্রকাশ্যে সংহতি জানান। রাজধানীতে মানববন্ধন, পথনাটক, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা হয়।
এদিন আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে পরদিন থেকে দেশব্যাপী অসহযোগ কর্মসূচির ঘোষণা। একই সঙ্গে আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা জানান, গোয়েন্দা হেফাজতে আন্দোলন প্রত্যাহারের যে ভিডিও প্রচার করা হয়েছিল, তা চাপের মুখে ধারণ করা হয়েছিল এবং সেটি তাদের স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত ছিল না।
দিনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনায় কয়েক ঘণ্টার জন্য ফেসবুক ও মেসেঞ্জারসহ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়, যা আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও দিনটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সরকার সংলাপের ইঙ্গিত দিলেও আন্দোলনকারীরা তাদের ঘোষিত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
সম্পাদক : এম কামাল কবীর 📧 m.kamalkabir62@gmail.com ✆ +৮৮০১৭১৪৯২৫৬০৬ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ হোল্ডিং নং ২ (৩য় তলা), রোড নং : ১, ব্লখ : খ,পি সি কালচার আদাবর,ঢাকা -১২০৭।
📧bartomankhobor@gmail.com ✆ +৮৮০১৮৮০১১৫৮৪৪
কপিরাইট @২০২৬, দৈনিক বর্তমান খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি ও দন্ডনীয় অপরাধ।