মাহতাবুর রহমানঃ
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ২১তম দিনে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যায়। টানা কয়েক দিনের সংঘর্ষ, প্রাণহানি, কারফিউ এবং অচলাবস্থার মধ্যে রোববার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কোটা ব্যবস্থা নিয়ে বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ের পর আন্দোলন, রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম নেয়।
সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কারফিউ কার্যকর ছিল। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের যৌথ টহল অব্যাহত থাকে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সরকারি স্থাপনা এবং কৌশলগত স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তবে আগের দুই দিনের তুলনায় রাস্তাঘাটে কিছুটা স্বস্তির চিত্র দেখা যায়।
দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল আপিল বিভাগের রায়। আদালত সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বিষয়ে নতুন নির্দেশনা প্রদান করে এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে। রায়ের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। অনেকেই এটিকে আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখলেও আন্দোলনের সমন্বয়করা জানান, কেবল রায়ই যথেষ্ট নয়; আন্দোলন চলাকালে নিহত ও আহতদের বিচার এবং দায়ীদের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ শিথিলের সময় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কিছুটা বৃদ্ধি পায়। বাজার, ব্যাংক, ফার্মেসি এবং জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত আকারে কার্যক্রম পরিচালনা করে। কয়েক দিন পর মানুষকে তুলনামূলক স্বাভাবিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
এদিকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের অবস্থা জানতে স্বজনদের ভিড় অব্যাহত থাকে। আগের কয়েক দিনের সংঘর্ষে আহত শত শত মানুষ তখনো চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন নিহত ও আহতদের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও রায়ের পর আলোচনা তীব্র হয়। বিভিন্ন দল ও সংগঠন আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও চলমান সংকটের পূর্ণাঙ্গ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সংলাপ, পুনর্মিলন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও থমথমে পরিবেশ বজায় ছিল। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল অব্যাহত রাখা হয়। বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া না গেলেও স্থানীয়ভাবে সতর্ক অবস্থা বজায় ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রায়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। আন্দোলনের সমর্থকরা এটিকে দীর্ঘ আন্দোলনের ফল হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন পোস্ট, ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
সন্ধ্যার দিকে আন্দোলনের সমন্বয়করা এক বিবৃতিতে জানান, আদালতের রায় আন্দোলনের একটি দাবি পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা, প্রাণহানি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলোও সমাধান করতে হবে। তারা নিহতদের বিচার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি পুনরায় উত্থাপন করেন।
রাতের দিকে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকলেও আগের দিনের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত ছিল। সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও সাম্প্রতিক সহিংসতার স্মৃতি তখনো গভীরভাবে বিদ্যমান ছিল।
সম্পাদক : এম কামাল কবীর 📧 m.kamalkabir62@gmail.com ✆ +৮৮০১৭১৪৯২৫৬০৬ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ হোল্ডিং নং ২ (৩য় তলা), রোড নং : ১, ব্লখ : খ,পি সি কালচার আদাবর,ঢাকা -১২০৭।
📧bartomankhobor@gmail.com ✆ +৮৮০১৮৮০১১৫৮৪৪
কপিরাইট @২০২৬, দৈনিক বর্তমান খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি ও দন্ডনীয় অপরাধ।