মো: মহিব্বুল্লাহঃ
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১৮তম দিনটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী দিনে পরিণত হয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দিনভর সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। দেশের অধিকাংশ শহরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে আসেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী হাসপাতাল, জরুরি সেবা ও গণমাধ্যম ছাড়া প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়।
রাজধানীর শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাব, মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, রামপুরা, চানখারপুল এবং বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আন্দোলনকারীরাও বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড স্থাপন করেন। ফলে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রায় সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়।
চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, কুমিল্লা, বরিশাল এবং ময়মনসিংহেও সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দেশের অন্তত কয়েক ডজন জেলায় আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।
দিনভর সংঘর্ষে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সংবাদসূত্র অনুযায়ী, ১৮ জুলাই দেশের ৪০টিরও বেশি জেলায় সহিংসতায় বহু মানুষ নিহত এবং সহস্রাধিক আহত হন। নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, সাধারণ নাগরিক, সাংবাদিক এবং অন্যান্য পেশার মানুষও ছিলেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
এদিন রাজধানীতে শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ নিহত হওয়ার খবর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। একই দিনে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর খবর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়।
বিকেল থেকে দেশের মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হতে শুরু করে। পরে ইন্টারনেট ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেয়। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও গুজব প্রতিরোধের যুক্তি তুলে ধরে ইন্টারনেট বন্ধের কথা জানায়। এর ফলে দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সরকারি স্থাপনা, যানবাহন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা, সংঘর্ষ, প্রাণহানি এবং যোগাযোগব্যবস্থার অচলাবস্থার কারণে সারা দেশে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক মহল শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানায়।
সম্পাদক : এম কামাল কবীর 📧 m.kamalkabir62@gmail.com ✆ +৮৮০১৭১৪৯২৫৬০৬ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ হোল্ডিং নং ২ (৩য় তলা), রোড নং : ১, ব্লখ : খ,পি সি কালচার আদাবর,ঢাকা -১২০৭।
📧bartomankhobor@gmail.com ✆ +৮৮০১৮৮০১১৫৮৪৪
কপিরাইট @২০২৬, দৈনিক বর্তমান খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি ও দন্ডনীয় অপরাধ।