মাহ্তাবুর রহমানঃ
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের ত্রয়োদশ দিনে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, টানা প্রায় দুই সপ্তাহের আন্দোলনের পরও তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে আন্দোলন আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দেন তারা।
সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করেন। টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকা ঘিরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মিছিল করেন এবং সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে আন্দোলনের সমন্বয়করা বলেন, কোটা সংস্কারের দাবি এখন কেবল চাকরিপ্রত্যাশীদের নয়, এটি বৈষম্যবিরোধী একটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। তারা পুনরায় সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং আন্দোলনের চার দফা দাবি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এদিন আন্দোলনের নেতারা বিশেষভাবে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন স্থানে চাকরিপ্রত্যাশীরাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
আন্দোলনকারীরা এদিন অভিযোগ করেন, তাদের আন্দোলন সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা শিক্ষার্থীদের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ চরিত্র বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিকেলে আয়োজিত এক সমাবেশে আন্দোলনের নেতারা ঘোষণা দেন, দাবি আদায়ে দ্রুত অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তারা সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেন এবং বৃহত্তর ছাত্র ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।