রংপুর ব্যুরো: দিনাজপুরে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। ভালো ফলনের সম্ভবনায় জেলার ১৩ উপজেলার কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। দিনাজপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ১৩টি উপজেলায় চলতি শীত মৌসুমে কৃষি অধিদপ্তর ২ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে এ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ২ হাজার ১৮১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ।
দিনাজপুর সদর উপজেলার ভাব গ্রামের কৃষক মতিউর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে ৫০ শতক জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। পেঁয়াজের গাছ কিছুটা বড় হয়েছে। পেঁয়াজ রোপণের পর থেকে তিন মাস সময় লাগে পেঁয়াজ জমিতে পরিপক্ব হতে। এক বিঘা জমি পেঁয়াজ চাষ করতে পেঁয়াজের বীজ, রাসায়নিক সার, গোবর ও শ্রমিকের মূল্যসহ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। পৌষ মাস থেকে পেঁয়াজ রোপণ শুরু হয়। পেঁয়াজ পরিপক্ব হওয়ার আগেই পেঁয়াজের গাছসহ উত্তোলন করে বাজারজাত করা যায়। এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে পরিচর্যার মাধ্যমে পেঁয়াজের চাষ করা হলে এক লক্ষ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি করা সম্ভব।
দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের শীতকালীন শস্য নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত সহকারী পরিচালক মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে পেঁয়াজের অস্থিও বাজার রোধ করতেই সারা দেশে পেঁয়াজ চাষের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাবনা জেলার চলনবিলের শীতকালীন মৌসুমে শুকিয়ে যাওয়া চরগুলোতে পেঁয়াজের ব্যাপক চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু ওই পেঁয়াজ দিয়ে সারা দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। দেশের জনগণ বেড়েই চলছে, সেই কারণে সারাদেশের ন্যায় খাদ্যের জেলা দিনাজপুরে পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে চলতি মৌসুমে কৃষকদের উন্নতজাতের পেঁয়াজের বীজ সরবরাহ করে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী করে তোলা হয়েছে।
দিনাজপুর সদর, বিরল, বোচাগঞ্জ, খানসামা, বীরগঞ্জ, কাহারোল, চিরিরবন্দর ও বিরামপুর উপজেলায় পেঁয়াজের চাষ তুলনামূলক বেশি হচ্ছে। দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন বলেন, গত দুই বছর সারা দেশে রবি মৌসুমের সব ধরনের ফসলের ঘাটতি ছিল। চলতি বছর কৃষি বিভাগ দেশের মানুষের রবি শস্যের চাহিদা পূরণে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চলতি বছর জেলার ১৩টি উপজেলায় ২ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। শীত মৌসুমের শুরুতেই ডিসেম্বর মাসের প্রথম থেকে জানুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত দুই মাসব্যাপী দেশের সব এলাকার কৃষকেরা পেঁয়াজের চাষ করে থাকে।



