মো: মহিব্বুল্লাহঃ
বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫ আগস্ট ২০২৪, যা আন্দোলনকারীদের ভাষায় ৩৬ জুলাই এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। টানা কয়েক সপ্তাহের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি এবং দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং দেশ ত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে টানা ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের অবসান ঘটে এবং দেশে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়।
সকাল থেকেই ঢাকার প্রবেশপথ, শাহবাগ, ফার্মগেট, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মিরপুর, গাবতলী, বাড্ডা, রামপুরা, সায়েন্স ল্যাব, ধানমন্ডিসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় লাখো মানুষ জড়ো হতে থাকেন। ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে মানুষ রাজধানীর দিকে যাত্রা করেন। কারফিউ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ি উপেক্ষা করে জনস্রোত ঢাকার দিকে এগিয়ে আসে এবং আন্দোলন কার্যত সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
দুপুরের দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সামরিক হেলিকপ্টারে গণভবন ত্যাগ করেন এবং পরে ভারতগামী হন। প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানীসহ সারা দেশে আনন্দ-উল্লাস শুরু হয়। বহু স্থানে মানুষ রাস্তায় নেমে বিজয় মিছিল করেন।
প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের পর হাজারো মানুষ গণভবনে প্রবেশ করেন। ভবনের বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ, আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি স্থাপনা, রাজনৈতিক কার্যালয় এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়।
বিকেলে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জানান যে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং সহিংসতা ও প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, ফেনী, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুরসহ দেশের প্রায় সব জেলায় বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে কিছু এলাকায় সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, প্রতিশোধমূলক হামলা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঘটনাও ঘটে।
দিনভর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠারের শিক্ষার্থীরা শহীদদের স্মরণে শোক প্রকাশ করেন এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আন্দোলনের সমন্বয়কেরা ঘোষণা দেন যে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ৫ আগস্টের ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করে। বিভিন্ন দেশ শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর, সংযম এবং দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়।
সম্পাদক : এম কামাল কবীর 📧 m.kamalkabir62@gmail.com ✆ +৮৮০১৭১৪৯২৫৬০৬ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ হোল্ডিং নং ২ (৩য় তলা), রোড নং : ১, ব্লখ : খ,পি সি কালচার আদাবর,ঢাকা -১২০৭।
📧bartomankhobor@gmail.com ✆ +৮৮০১৮৮০১১৫৮৪৪
কপিরাইট @২০২৬, দৈনিক বর্তমান খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি ও দন্ডনীয় অপরাধ।