মো: মহিব্বুল্লাহঃ
জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ‘৩৪ জুলাই’ হিসেবে পরিচিত ৩ আগস্ট ছিল আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর একটি। এদিন রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা সরকারপ্রধান ও মন্ত্রিসভার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ৪ আগস্ট থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে আন্দোলন কোটা সংস্কারের দাবির সীমা অতিক্রম করে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে আসতে শুরু করেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সমাবেশে যোগ দেন। দুপুরের পর শহীদ মিনার এবং আশপাশের সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সমাবেশে আন্দোলনের সমন্বয়করা ঘোষণা করেন, আন্দোলনের একমাত্র দাবি হবে সরকারপ্রধান ও মন্ত্রিসভার পদত্যাগ। তারা জানান, আন্দোলনের সময় ব্যাপক প্রাণহানি, গ্রেফতার এবং দমন-পীড়নের পর আর কোনো সংলাপের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ৪ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে সরকারপ্রধান আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সংলাপের আহ্বান জানান। তবে আন্দোলনের সমন্বয়করা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গোয়েন্দা হেফাজতে থাকার সময় তারা চাপের মুখে ছিলেন এবং এখন আন্দোলন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
শুধু ঢাকাতেই নয়, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, বগুড়া, নোয়াখালী, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, দিনাজপুরসহ দেশের অধিকাংশ জেলায় একযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বিশাল মিছিল বের করেন।
বগুড়া, নওগাঁসহ কয়েকটি জেলায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হন এবং কয়েকটি স্থানে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান। অনেক স্থানে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মোমবাতি প্রজ্বলনের কর্মসূচি পালিত হয়। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সহিংসতা বন্ধ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিনটি ব্যাপক আলোচনায় ছিল। শহীদ মিনারের সমাবেশের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনের ঘোষিত এক দফা দাবি দেশ-বিদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
দিনের শেষদিকে আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৪ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। এসব নির্দেশনায় সরকারি কার্যক্রম বর্জন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা, প্রয়োজনীয় সেবা ছাড়া অন্যান্য কার্যক্রম সীমিত রাখাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়।
সম্পাদক : এম কামাল কবীর 📧 m.kamalkabir62@gmail.com ✆ +৮৮০১৭১৪৯২৫৬০৬ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ হোল্ডিং নং ২ (৩য় তলা), রোড নং : ১, ব্লখ : খ,পি সি কালচার আদাবর,ঢাকা -১২০৭।
📧bartomankhobor@gmail.com ✆ +৮৮০১৮৮০১১৫৮৪৪
কপিরাইট @২০২৬, দৈনিক বর্তমান খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি ও দন্ডনীয় অপরাধ।