মো: মহিব্বুল্লাহঃ
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ২৪তম দিনে দেশের পরিস্থিতি আগের সপ্তাহের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত থাকলেও আন্দোলনের প্রভাব, প্রাণহানি এবং বিচার দাবির বিষয়টি জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও সাম্প্রতিক সহিংসতার স্মৃতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং শোকের আবহ এখনো কাটেনি।
বুধবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চলাচল আরও বৃদ্ধি পায়। সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পকারখানাগুলো সীমিত পরিসর থেকে ধীরে ধীরে পূর্ণ কার্যক্রমে ফিরতে শুরু করে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের মতোই জোরদার রাখা হয়।
শাহবাগ, মতিঝিল, ফার্মগেট, মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মেট্রোরেল, সেতু, সরকারি স্থাপনা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের সময় নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, শোকসভা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনাসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষ এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসা অব্যাহত থাকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীনদের দেখতে স্বজনদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। চিকিৎসকরা জানান, গুরুতর আহতদের অনেকের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, ছবি এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তখনো বন্ধ ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনলাইনভিত্তিক আলোচনা ও সংগঠনের কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতি, ছবি এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলতে থাকে।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা জানান, কয়েক দিনের সহিংসতা, কারফিউ এবং ইন্টারনেট বিভ্রাটের কারণে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে রপ্তানি, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, ই-কমার্স এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন দ্রুত পূর্ণ স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানায়।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও দিনটি ছিল আলোচনা ও মূল্যায়নের। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জাতীয় পর্যায়ে আস্থা পুনর্গঠন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত ছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যম আন্দোলনের সময়কার প্রাণহানি, গ্রেপ্তার এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে থাকে।
সন্ধ্যার পর রাজধানী ও অন্যান্য বড় শহরে স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ঘটনার প্রভাব সাধারণ মানুষের আচরণে স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়। অনেকেই পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি এবং ভবিষ্যতে এমন সহিংসতা এড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সম্পাদক : এম কামাল কবীর 📧 m.kamalkabir62@gmail.com ✆ +৮৮০১৭১৪৯২৫৬০৬ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ হোল্ডিং নং ২ (৩য় তলা), রোড নং : ১, ব্লখ : খ,পি সি কালচার আদাবর,ঢাকা -১২০৭।
📧bartomankhobor@gmail.com ✆ +৮৮০১৮৮০১১৫৮৪৪
কপিরাইট @২০২৬, দৈনিক বর্তমান খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি ও দন্ডনীয় অপরাধ।