মাহ্তাবুর রহমানঃ
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ২৩তম দিনে দেশের পরিস্থিতি আগের সপ্তাহের তুলনায় অনেকটাই শান্ত থাকলেও আন্দোলনের প্রভাব, প্রাণহানির শোক এবং বিচার দাবির প্রশ্নে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও আন্দোলন ঘিরে আলোচনা, গ্রেফতার অভিযান এবং নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
সকালে রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল আগের দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। কারফিউ শিথিলের সময়সীমা বাড়ানোর ফলে মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেন। ব্যাংক, সরকারি অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পকারখানাগুলো সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালালেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, মতিঝিল, মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী এবং পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের টহল অব্যাহত থাকে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, মেট্রোরেল স্টেশন, সেতু এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান চলতে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গ্রেফতার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তখনো বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসগুলো অনেকটাই ফাঁকা ছিল। তবে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আন্দোলনের সময়কার ঘটনা, নিহতদের স্মৃতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান।
দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং অন্যান্য শহরে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ নিহতদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও দেখা যায়।
হাসপাতালগুলোতে তখনো বহু আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আহতদের জন্য রক্তদান ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যায়।
এদিকে ইন্টারনেট সেবা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হতে শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং ব্যবসায়ীরা কয়েক দিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা তুলে ধরেন। অনেক প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ শুরু করে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও দিনটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সাম্প্রতিক সহিংসতা, প্রাণহানি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জাতীয় ঐক্য, সংলাপ এবং সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত ছিল। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা প্রাণহানির ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
সন্ধ্যার পর রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে জনজীবন কিছুটা স্বাভাবিক হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো উদ্বেগ ও সতর্কতা লক্ষ করা যায়। অনেকেই সাম্প্রতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সম্পাদক : এম কামাল কবীর 📧 m.kamalkabir62@gmail.com ✆ +৮৮০১৭১৪৯২৫৬০৬ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ হোল্ডিং নং ২ (৩য় তলা), রোড নং : ১, ব্লখ : খ,পি সি কালচার আদাবর,ঢাকা -১২০৭।
📧bartomankhobor@gmail.com ✆ +৮৮০১৮৮০১১৫৮৪৪
কপিরাইট @২০২৬, দৈনিক বর্তমান খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি ও দন্ডনীয় অপরাধ।