মো: মহিব্বুল্লাহঃ
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ২২তম দিনে দেশের পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও আন্দোলনের প্রভাব, প্রাণহানির শোক এবং বিচার দাবির প্রশ্নে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর আন্দোলনের মূল দাবি আংশিকভাবে বাস্তবায়নের পথ তৈরি হলেও আন্দোলনকারীরা নিহতদের বিচার, আহতদের ক্ষতিপূরণ এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার থাকেন।
সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কারফিউ শিথিলের সময় আরও বাড়ানো হয়। কয়েক দিন পর সাধারণ মানুষকে তুলনামূলক স্বাভাবিকভাবে রাস্তায় চলাচল করতে দেখা যায়। ব্যাংক, সরকারি-বেসরকারি অফিস, দোকানপাট এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে কার্যক্রম শুরু করে। তবে সর্বত্র নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারি বজায় ছিল।
রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, মতিঝিল, গুলিস্তান, মিরপুর, উত্তরা এবং যাত্রাবাড়ী এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের টহল অব্যাহত থাকে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তখনো বন্ধ ছিল। তবে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও বিভিন্ন বিকল্প মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রেখে আন্দোলনের পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান।
এদিন বিভিন্ন স্থানে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে দোয়া মাহফিল, শোকসভা এবং স্মরণ কর্মসূচি পালিত হয়। বিশেষ করে রংপুরে নিহত আবু সাঈদ এবং দেশের অন্যান্য স্থানে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন কর্মসূচি আয়োজন করে। পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি জানাতে সাধারণ মানুষও অংশগ্রহণ করেন।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজ নিতে স্বজনদের ভিড় অব্যাহত থাকে। চিকিৎসকরা জানান, আগের কয়েক দিনের সংঘর্ষে আহত অনেকের অবস্থা তখনো গুরুতর। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিহত ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে দিনটি ছিল আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানালেও সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় ও প্রশাসনিক তদন্তের দাবি তোলে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে জাতীয় সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু হয়। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়। তবে যাত্রীসংখ্যা ছিল কম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সতর্কতা লক্ষ করা যায়।
ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হলেও অনেক এলাকায় এখনো সীমাবদ্ধতা ছিল। ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ইন্টারনেট সেবা চালুর দাবি জানান, কারণ কয়েক দিনের বিঘ্নে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় প্রভাব পড়ে।
দিনের শেষভাগে আন্দোলনের সমন্বয়করা এক বিবৃতিতে জানান, আদালতের রায়কে তারা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন, তবে আন্দোলনের সময় সংঘটিত প্রাণহানি, নির্যাতন এবং গ্রেফতারের বিষয়গুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের ন্যায়বিচারের দাবি অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক : এম কামাল কবীর 📧 m.kamalkabir62@gmail.com ✆ +৮৮০১৭১৪৯২৫৬০৬ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ হোল্ডিং নং ২ (৩য় তলা), রোড নং : ১, ব্লখ : খ,পি সি কালচার আদাবর,ঢাকা -১২০৭।
📧bartomankhobor@gmail.com ✆ +৮৮০১৮৮০১১৫৮৪৪
কপিরাইট @২০২৬, দৈনিক বর্তমান খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি ও দন্ডনীয় অপরাধ।