মাহ্তাবুর রহমানঃ
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১৯তম দিনটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম সংকটময় দিনে পরিণত হয়। আগের দিনের ব্যাপক সংঘর্ষ, প্রাণহানি এবং দেশব্যাপী অচলাবস্থার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশব্যাপী কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেয়।
সকালে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, রামপুরা, মিরপুর, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, সায়েন্স ল্যাব, শাহবাগ এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। অনেক স্থানে সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালানো এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে আগের দিন এবং এদিন আহত হওয়া মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এবং অন্যান্য চিকিৎসাকেন্দ্রে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, সাধারণ নাগরিক, পথচারী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন।
চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, কুমিল্লা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে সরকারি স্থাপনা, যানবাহন ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হন।
দিনভর পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে সরকার সন্ধ্যার দিকে সারাদেশে কারফিউ জারির ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাসদস্যদের টহল শুরু হয়।
এদিকে ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থার ওপর বিধিনিষেধ বহাল থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকার তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দিনভর নিহত ও আহতদের স্মরণে প্রতিবাদ জানান। অনেক স্থানে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রাণহানি ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা দ্রুত সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান।
সম্পাদক : এম কামাল কবীর 📧 m.kamalkabir62@gmail.com ✆ +৮৮০১৭১৪৯২৫৬০৬ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ হোল্ডিং নং ২ (৩য় তলা), রোড নং : ১, ব্লখ : খ,পি সি কালচার আদাবর,ঢাকা -১২০৭।
📧bartomankhobor@gmail.com ✆ +৮৮০১৮৮০১১৫৮৪৪
কপিরাইট @২০২৬, দৈনিক বর্তমান খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি ও দন্ডনীয় অপরাধ।