মো: মহিব্বুল্লাহঃ
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১৬তম দিনে দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, কুমিল্লা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দিনভর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ব্যবহারের ঘটনায় শত শত মানুষ আহত হন। বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে, যা আন্দোলনের ইতিহাসে এদিনকে সবচেয়ে আলোচিত ও বেদনাদায়ক দিনগুলোর একটিতে পরিণত করে।
সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ১৫ জুলাইয়ের হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন। বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে মিছিল বের হয়ে টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় সমবেত হয়। শিক্ষার্থীরা হামলার বিচার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
দুপুরের দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শাহবাগ, নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব, চানখারপুল এবং আশপাশের এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও অন্যান্য পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হন।
দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে রংপুরে। সেখানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তার মৃত্যুর খবর দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রংপুরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন এবং বিভিন্ন সড়কে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম নগরীতেও সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক অবরোধ, মিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনেক স্থানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং জনজীবনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালগুলোতে স্বজনদের ভিড় বাড়তে থাকে। আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী ছাড়াও সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের থাকার খবর পাওয়া যায়।
সন্ধ্যার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারো শিক্ষার্থী মশাল মিছিল বের করেন। রাজু ভাস্কর্য এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দায়ীদের বিচারের দাবি করেন। তারা ঘোষণা দেন, আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না।
দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও দিনভর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন ও সংঘর্ষের ছবি এবং ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
রাতের দিকে আন্দোলনের সমন্বয়করা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা সারা দেশে শোক কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের জন্য বিচার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
সম্পাদক : এম কামাল কবীর 📧 m.kamalkabir62@gmail.com ✆ +৮৮০১৭১৪৯২৫৬০৬ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ হোল্ডিং নং ২ (৩য় তলা), রোড নং : ১, ব্লখ : খ,পি সি কালচার আদাবর,ঢাকা -১২০৭।
📧bartomankhobor@gmail.com ✆ +৮৮০১৮৮০১১৫৮৪৪
কপিরাইট @২০২৬, দৈনিক বর্তমান খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি ও দন্ডনীয় অপরাধ।