মাহ্তাবুর রহমানঃ
কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের ১৫তম দিনে দেশের রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং হামলার ঘটনায় দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায়। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও বিক্ষোভ, মিছিল ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
১৪ জুলাই রাতে শুরু হওয়া ক্ষোভের ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং ভিসি চত্বর এলাকায় আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন। বিভিন্ন হল থেকে মিছিল বের হয়ে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় স্থানে সমবেত হয়।
দুপুরের দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেলের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং মারধরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। টিএসসি, শহীদুল্লাহ হল এলাকা, দোয়েল চত্বর, ভিসি চত্বর এবং নীলক্ষেতসংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে বহু শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলেও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমিয়ে দিতে তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগও সামনে আসে। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঢাকার বাইরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যারিস রোডে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সমাবেশে অংশ নেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে মিছিল করেন।
সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করেন। রাতভর বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনের সমন্বয়করা রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে হামলার বিচার দাবি করেন এবং নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা জানান, পরদিন সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। একই সঙ্গে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।