মো: মহিব্বুল্লাহঃ
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের ১৪তম দিনে দেশজুড়ে নতুন মাত্রা পায় পরিস্থিতি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিনভর বিক্ষোভ, সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চললেও সন্ধ্যার পর প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর জেরে রাতভর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলন নতুন মোড় নেয়।
সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বিভিন্ন স্থানে চাকরিপ্রত্যাশীরাও আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, টানা দুই সপ্তাহের আন্দোলনের পরও তাদের দাবির বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তারা সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
দিনের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল প্রধানমন্ত্রীর এক সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য। ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিকেল থেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। সন্ধ্যার পর সেই ক্ষোভ রূপ নেয় রাজপথের বিক্ষোভে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাত ৯টার পর থেকেই বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বের হতে শুরু করেন। মুহসীন হল, জসীমউদ্দীন হল, জগন্নাথ হল, সূর্যসেন হল, এফ রহমান হল, বিজয় একাত্তর হল এবং অন্যান্য হল থেকে বের হওয়া মিছিলগুলো টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য ও শহীদ মিনার এলাকায় একত্রিত হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছে যায়।
রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আন্দোলনের প্রতি ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। রাত গভীর হলেও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেনি। অনেকেই এটিকে আন্দোলনের নতুন টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে অভিহিত করেন।
সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও রাতভর বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নেন। সমাবেশে তারা বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন হল থেকে মিছিল বের হয়ে প্যারিস রোডে সমবেত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেন এবং আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চুয়েটেও রাতভর কর্মসূচি পালন করা হয়। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রতিবাদ মিছিল করেন। একই ধরনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। ফেসবুকজুড়ে আন্দোলন-সংক্রান্ত পোস্ট, ছবি ও লাইভ ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
রাতের সমাবেশগুলো থেকে আন্দোলনের নেতারা পরদিন আরও বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তারা বলেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক : এম কামাল কবীর 📧 m.kamalkabir62@gmail.com ✆ +৮৮০১৭১৪৯২৫৬০৬ ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ হোল্ডিং নং ২ (৩য় তলা), রোড নং : ১, ব্লখ : খ,পি সি কালচার আদাবর,ঢাকা -১২০৭।
📧bartomankhobor@gmail.com ✆ +৮৮০১৮৮০১১৫৮৪৪
কপিরাইট @২০২৬, দৈনিক বর্তমান খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের যেকোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি ও দন্ডনীয় অপরাধ।