মো: মহিব্বুল্লাহঃ
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের দ্বাদশ দিনে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণমিছিল, সমাবেশ এবং গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বড় আকারের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেন, তাদের দাবির বিষয়ে এখনো কার্যকর ও স্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি। ফলে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গণসংযোগ চালান। জুমার নামাজের পর টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে একটি সমাবেশে অংশ নেন হাজারো শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং মেধা, সমতা এবং বৈষম্যহীন নিয়োগ ব্যবস্থার দাবিতে পরিচালিত হচ্ছে। তারা সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার এবং ২০১৮ সালের পরিপত্রের চেতনা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এদিন আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সংহতি কর্মসূচি পালন করেন।
শুক্রবার হওয়ায় নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম সীমিত থাকলেও আন্দোলনকারীরা সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেন। বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ, আলোচনা সভা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনের সমন্বয়করা জানান, আন্দোলনকে আরও বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিকেলে আয়োজিত এক সমাবেশে আন্দোলনের নেতারা পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তারা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের কিছু প্রতিনিধিও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। আন্দোলনকারীরা এটিকে তাদের দাবির প্রতি জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।