মাহ্তাবুর রহমানঃ
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের একাদশ দিনে দেশব্যাপী আবারও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। আগের দিন আপিল বিভাগের দেওয়া স্থিতাবস্থা আদেশের পরও আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়েননি। বরং দাবি আদায়ে আরও দৃঢ় অবস্থান নিয়ে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও রাজু ভাস্কর্য এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করলে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগস্থলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শাহবাগ, বাংলামোটর, কাঁটাবন, মৎস্য ভবন ও নীলক্ষেত এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সমাবেশে আন্দোলনের সমন্বয়করা বলেন, আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা আদেশ তাদের মূল দাবির সমাধান নয়। তারা সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার স্থায়ী সংস্কার, বৈষম্য দূরীকরণ এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
এদিন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। অনেক স্থানে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীরাও আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন।
আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও সরকারের পক্ষ থেকে কোটা সংস্কারের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। তারা বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানালেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। এজন্য আন্দোলন অব্যাহত রাখা ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো পথ নেই।
দিনব্যাপী অবরোধ কর্মসূচির কারণে রাজধানী ও বিভিন্ন জেলায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। অফিসফেরত যাত্রী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, বৃহত্তর স্বার্থে সাময়িক এই ভোগান্তি মেনে নেওয়া প্রয়োজন।
বিকেলে শাহবাগে এক সমাবেশ থেকে আন্দোলনের সমন্বয়করা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা জানান, পরবর্তী দিনগুলোতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনের বিস্তার ঘটানো হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।