মো: মহিব্বুল্লাহঃ
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের দশম দিনে দেশব্যাপী সর্বাত্মক ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সড়ক, মহাসড়ক এবং রেলপথ অবরোধের মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যান। এদিন দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয় এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জনদুর্ভোগ দেখা দেয়।
সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকার সামনে জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। শাহবাগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যারিকেড থাকলেও শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। প্রায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় শাহবাগ অবরুদ্ধ ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়।
শুধু শাহবাগ নয়, রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, ফার্মগেট, বাংলামোটরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন। ফলে ঢাকার যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। দীর্ঘ যানজটের কারণে সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
একই দিনে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কেও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে, কুমিল্লা অঞ্চলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এবং অন্যান্য স্থানে গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে অবস্থান নেন। বিভিন্ন স্থানে রেললাইন অবরোধের ঘটনাও ঘটে, যার ফলে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
এদিন আন্দোলনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের কোটা পুনর্বহালসংক্রান্ত রায়ের ওপর চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এর ফলে অন্তত এক মাসের জন্য ২০১৮ সালের কোটা বাতিলসংক্রান্ত সরকারি পরিপত্র কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তবে আদালতের এই আদেশে আন্দোলনকারীরা সন্তুষ্ট হননি। আন্দোলনের সমন্বয়করা বলেন, তাদের দাবি কেবল স্থিতাবস্থা নয়; তারা সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার স্থায়ী ও যৌক্তিক সংস্কার চান। এ কারণে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিকেলে শাহবাগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের নেতারা জানান, সরকার কোটা সংস্কারের জন্য একটি কমিশন গঠন না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে ১১ জুলাইও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।