শিরোনাম :
মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নে আবার জ্বলে উঠুক আমাদের বাংলাদেশ ইসলামপুরে এফ এইচ খান বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ ইসলামপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শিক্ষককে মারধর ভোক্তাদের ভিন্নধর্মী ক্যাটারিং অভিজ্ঞতা দিতে হুয়াওয়ের সাথে সোডেক্সো প্রায় ২০০ এর অধিক মৃতের কবর খনন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জুয়েল ও সহযোগী হিমেল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত স্যামসাং আনপ্যাকড ইভেন্ট-ওয়েলকাম টু দ্য এভরিডে এপিক শহিদ মিনারের দাবীতে ইসলামপুরে ৯৭ব্যাচের মানববন্ধন এমদাদুল হক খান চান স্যার স্মৃতি ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ নৌকা হলো উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিক,ব্যক্তিকে নয় নৌকাকে ভালোবাসি


কিশোরী রাইদার রূপকথা’স ওয়ার্ল্ড

১৬ বছরের কিশোরী রাইদা ইসলাম। পড়াশোনায় সবে মাধ্যমিক শেষে উচ্চ মাধ্যমিকে। ইতোমধ্যেই স্বপ্নের হাতছানিকে ছুঁয়ে দেখতে নিজের নাম লিখিয়েছে উদ্যোক্তার তালিকায়।

বগুরা জেলার শেরপুরে ২০০৩ সালে ডিসেম্বরে স্কুল শিক্ষক বাবা আর গৃহিনী মায়ের ঘরে জন্মগ্রহণ করে রাইদা ইসলাম। বাবা-মায়ের আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের সাথে ছোটবেলা থেকেই যুক্ত হয় পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য রাইদা।

সাড়ে ৩ বছর বয়সে একটি রং পেন্সিল কোম্পানির সৌজন্যে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে স্থান করে নেয় বিজয়ীদের তালিকায় সপ্তম অবস্থানে। শখের বশে নাচ শিখে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে কিশোরী রাইদার।

রং পেন্সিলের আঁচড় ভুলতে না পেরে পূর্ণ মনযোগ দিয়েছে আঁকাআঁকিতে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় নিজের নাম লিখিয়েছে উদ্যোক্তার তালিকায়। সোশ্যাল নেটওয়ার্কের যুগে “Rupkotha’s World – Drawing Point” নামে ফেসবুক পেজ এর মাধ্যমে ফেসবুক মার্কেটিং এ নিজের উদ্যোক্তা পরিচয় তুলে ধরেছে রাইদা।

উদ্যোক্তা হওয়ার ভাবনার সূচনা শুরু চাইলে রাইদা জানায়, “৯ম শ্রেনীতে পড়ার সময় অনলাইন থেকে একটি কাঠের গহনা কিনি এবং আমার মা আমাকে বলেন- ‘তুমিও তো বানাতে পারবে।’ তারপর থেকেই ভাবনা শুরু।

নিজের স্বপ্নকে পথ দেখাতে Rupkothas World নাম নিয়ে যাত্রা শুরু করি।” রাইদার এখানে কাঠের গহনার পাশাপাশি হাতে পেইন্ট করা কামিজ, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবী এবং কুশন কভার পাওয়া যায়।

রাইদা তার কাজ কর্ম নিয়ে জানায়, “এই ধরনের কাজ আমার মতো বয়সের খুব একটা কেউ করে না। এজন্য শুরুতে ভয়ে ছিলাম যে আমার থেকে কেউ নিবে কি না। কিন্তু সাহস করে কাঠের গহনা তৈরির কাঁচামাল এনে সব কিছু নিজ হাতে করি। এরপর কাঠের গহনার পাশাপাশি হাতে পেইন্ট করা কামিজ, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবী এবং কুশন কভার বানানো শুরু করি।”

গত ঈদে এবং পূজায় সাড়া ফেলে রাইদার Rupkothas World-এর কার্যক্রম। গ্রাহকের সাড়া নিয়ে হাসিমুখে রাইদা বলে, “গত ঈদে সফল ভাবে সবকিছু করতে পারেছি। কিন্তু পূজার সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণে তুলনামূলক কম কাজ করেছি।”

শখ থেকে শুরু করা কাজের মূল অনুপ্রেরণা দিয়েছে মা রায়হানা পারভীন আর সহায়তা পেয়েছেন বাবা রফিকুল ইসলাম রঞ্জুর ড্রয়িং প্রতিষ্ঠান থেকে। নিজের প্রাপ্তি নিয়ে বলতে গিয়ে রাইদা বলে, “অল্প সময়েই গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করে সফল নারী উদ্যোক্তার খাতায় নাম লেখাতে পেরেছি এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

তাছাড়া পরিবারের সবাই আমার কাজে খুব খুশি। সকল শিক্ষকও আমার এই কাজের প্রশংসা করেছেন।” করোনাকালে অবসর কাটাতে শখের উদ্যোক্তা সম্পর্কে মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উদ্যোক্তা হওয়া সহজ তবে টিকে থাকা টা কঠিন।

অনেকেই ফ্রি সময় কি করবো ভেবে বিজনেস সম্পর্কে কিছু না জেনে বুঝেই উদ্যোক্তা হতে চায়। যারা হুজুক এ শুরু করছে তারা আজ আছে কাল নাই।”

রাইদা ইসলাম চলতি বছর শেরপুর সামিট স্কুল এন্ড কলেজ এর মানবিক বিভাগে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। একই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। ভবিষ্যতে চারুকলায় উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ আর Rupkotha’s World এর প্রসারের স্বপ্ন দেখে কিশোরী উদ্যোক্তা রাইদা ইসলাম।

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com