শিরোনাম :
অপু-নিরবরা শুটিং শেষ না করে ফিরে এলেন একই রোল নিয়ে যাবে পরের ক্লাসে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা মরিচা ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী’র প্রকল্প আশ্রয়ন-২ এর আয়তায় ছিন্নমুল গৃহহীন পরিবার কে পুনর্বাসন মাগুরায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর পানি শোধনাগারের উদ্বোধন বীরগঞ্জের ঝাড়বাড়ী গড়ফতু ডাঙ্গায় মহিলা মহিলায় দাঙ্গা থানায় স্বর্নলংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ। লক্ষণাবন্দ ইউনিয়ন বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহে চলছে ভন্ড কবিরাজদের চিকিৎসার নামে প্রতারনা সরিষাবাড়ীতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে মাস্ক বিতরণ মেয়র প্রার্থীর আসন্ন দিরাই পৌরসভা নির্বাচন, মেয়র পদে আওয়ামীলীগ বিএনপির অর্ধডজন প্রার্থীর দৌঁড়ঝাপ


“ কারিগরি শিক্ষকদের আল্টিমেটাম ”

বামে শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপুমনি ডানে সচিব মোঃ আমিনুল ইসলাম খান

বিশেষ প্রতিনিধি ::
শিক্ষকরা নিজেদের পুড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলো ছড়ান, মূল্যবোধ সৃষ্টি ও ভালো মানুষ হতে শেখান। পাঠদান একটি শিল্প , শিক্ষকদের সেই শিল্পে দক্ষ শিল্পী হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। রাষ্ট্রের দ্বায়িত্ব শিক্ষকদের জীবনমান ও আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা বান্ধব সরকার সেই চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দিপু মনি কথা গুলো বলেছিলেন। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে শিক্ষা মন্ত্রীর কথার বিপরিত চিত্র। সেখানে শিক্ষকদের অপমান হয়রানি তাছিল্য শাস্তি বিচার ছাড়াই রায় প্রদান নিয়মিত ঘটনা।

দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া শিক্ষকরা নিজের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে ঢাকায় একত্রিত হয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে আন্দলোনের পস্তুতি নিচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায়

গত ৭/১০/২০২০ তারিখে বুধবার শতাধিক কারিগরি শিক্ষক দুপুর ১২টায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা মন্ত্রালয় পরিবহন পুল ভবনের নীচে একত্রিত হয়। বেলা ৩ টায় শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মোঃ আমিনুল ইসলাম খানের সাথে দেখা করেন।

মোঃ আমিনুল ইসলাম খান শিক্ষা মন্ত্রালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে ৭ জুলাই ২০২০ তারিখে যোগদান করেন। যোগদানের সাথে সাথে বিসিএস(প্রশাসন) ১৯৮৬ ব্যাচের এই কর্মকর্তা কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু উদ্দ্যোগ গ্রহন করেন। কারিগরি শিক্ষকরা এমপিও ভুক্তি সহ নানাবিদ সমস্য নিয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে সহযোগিতার পরিবর্তে নিজেদের সন্মান হারিয়ে মন্ত্রালয়ের সচিবের শরনাপন্ন হন।

কারিগরি শিক্ষা সচিব মোঃ আমিনুল ইসলাম খান যে শিক্ষকদের হাত ধরে কারিগরি শিক্ষা এগিয়ে যাবে সেই শিক্ষকদের এমপিও সহ অন্য যে সকল ছোট খাটো সমস্যা গুলো এতদিন ধরে চলে আসছিল যার কারনে শিক্ষদের দৌড় ঝাপ করতে হতো সেগুলোকে দুর করতে নীতিমালা সহজ করনের ম্যধ্যমে সংশোধনের উদ্যেগ নেন।

যার খসড়া ইতি মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছেন, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনুমোদনের সম্ভবনা আছে। সচিবের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান এই প্রতিবেদককে জানান, নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে ২৮০০ মতো শিক্ষক এমপিও ভুক্ত হয়ে যাবেন।

তিনি আরো বলেন, কারিগরি শিক্ষকরা কেন ফাইল নিয়ে অফিসে অফিসে ঘুড়বেন তারা নিজের প্রতিষ্ঠানে বসেই সরাসরি অধিদপ্তর,মন্ত্রালয়ের সাথে যোগাযোগ করে নিজেদের কাজ করতে পারেন। তা না হলে কারিগরি শিক্ষক আর কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন ?আমরা আগামী ৩০ বছর পর কারিগরি শিক্ষাকে যে অবস্থায় দেখতে চাই সেই লক্ষ্য পুরনের জন্য কাজ করছি।

কারিগরি শিক্ষা উন্নয়নে মন্ত্রালয় যে আন্তরিক ভাবেই কাজ করছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। সচিব মোঃ আমিনুল ইসলাম খান তার অধীনস্ত সচিবগন রাত ৮টা পর্যন্ত অফিস করেন। মন্ত্রালয়ের কিছু কর্মকর্তাকে এই প্রতিবেদক কেমন আছেন জানতে চাইলে বলেন, আর বলেন না ভাই আগেতো ২টা ৩টার সময়ও অফিস থেকে চলে যেতে পারতাম আর করোনার সময় অফিসে না এলেও চলতো এই সচিব স্যার আসার পর রাত পর্যন্ত অফিস করতে হয় ফাঁকি দেবার কোন সুযোগ নাই।

হতাশাগ্রস্থ শিক্ষকরা কারিগরি অধিদপ্তরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে মন্ত্রালয়ে দেখা করতে আসেন সচিব মো: আমিনুল ইসলাম খান কাউকে ফেরান না ব্যাস্ততার মাঝেও দেখা করেন, শিক্ষকদের কথা শোনেন সমাধানের চেষ্ঠা করেন।

এখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে, সব কাজ যদি মন্ত্রালয়কেই করতে হয় তাহলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কাজ কি ? আর যদি কাজই না থাকে তাহলে আদৌ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রয়োজন আছে ?

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারী কর্মকর্তাদের বলেছিলেন জনগনের খাদেম হতে হবে। বড়কর্তা হলে চলবে না,মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে, ওদের ট্যাক্সে,ওদের পয়সায় আপনার সংসার চলে

মনজুরুল কাদের

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা প্রায় অভিন্ন উত্তর দেন। কারিগরির কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুর বাণী জানেনা আর জানলেও মানে না, না মানাটা অস্বাভাবিক নয়, যেখানে শিক্ষা মন্ত্রালয়ের মতো জায়গায় সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে মহা দম্ভে চেয়ারে বসে আছে স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী সাজাপ্রাপ্ত নিজামির একান্ত সচিব, পরিচালক প্রশাসন মনজুরুল কাদের।

কারিগরি শিক্ষা উন্নয়নে বড় বাধা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা শুধু প্রতিবন্ধকতা তৈরী করতে পারে সমাধান দিতে পারে না। স্বাধীনতা বিরোধীরা তো সরকারের উন্নয়ন চায় না বাধাতো তৈরী করবেই।

কারিগরি শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য ৪টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয় ( এক) মানব সম্পদ ব্যবস্থাপন (দুই) উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা(তিন) একাডেমিক কার্যক্রমের তদারকী করণ (চার) কারিগরি শিক্ষা সংশ্রিষ্ট দেশিয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থান সঙ্গে সংযোগ সৃষ্টি করা।

কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্যি, মান উন্নয়ন দূরে থাক অধিদপ্তরের কারনে প্রতিনিয়ত কারিগরি শিক্ষার মান নীচের দিকে নামছে। এই চারটি মূল কাজেরই অপব্যবহার করছে মহাপরিচাল সহ এডি জহুরুল ইসলাম গং।

অথচ একই মন্ত্রালয়ের অধীনে মাদ্রাসা অধিদপ্তর কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরে বর্তমান সরকারের আমলে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েও গুনে মানে অনেক দুর এগিয়ে গেছে। তাহলে এটাতো পরিস্কার কারিগরি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অদক্ষতা অজ্ঞতা,অশোভনীয় আচরন কারিগরি উন্নয়নের কারিগর শিক্ষকদের সাথে দুরত্ব এর মুল কারন। মজার এবং লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে যে কজন দক্ষ কর্মকর্তা যোগদান করেছিলেন তাদের কাউকে বেশী দিন সে খানে রাখা হয়নি। আবার অনেক কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম (এডি-৮) এমপিও এর অসম্মান জনক আচরন ও কথাবার্তায় নিজেই বদলি হয়ে চলে গেছেন।

শিক্ষক নেতাদের বিভিন্ন দাবী সচিব মনোযোগ দিয়ে শুনে বলেন, আপনাদের সুযোগ সুবিধার কথা মাথায় রেখেই নীতিমালা সহজ করা হয়েছে এখন মাননীয় মন্ত্রী স্বাক্ষর করলেই তা প্রকাশ করা হবে তবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের এমপিও করা সম্ভব না। নীতিমালার মধ্যে যারা পাওয়ার যোগ্য তাদেরকেই এমপিও করন করা হবে।

কারিগরি শিক্ষক সমিতির বিএম শাখার রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার পীরগঞ্জন টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের প্রভাষক মোঃ আব্দুর রউফ লিটন সচিবের কাছে দাবী করেন যে, ২০১৮ সালের শিক্ষা নীতিমালার ১২,২ ধারাতে পদ সম্মনিত করন বিষয়টি বহাল রাখতে হবে। অযথা কোন শিক্ষককে হয়রানী করা যাবে না। বিনা কারনে কোন কর্মকর্তা দ্বারা কোন শিক্ষককে অপমান ও লাঞ্চিত করলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঘন্টা ব্যাপি আলোচনায় ঘুরে ফিরে শিক্ষক প্রতিনিধি দল একটা দাবিতে অনড় অবস্থান নেয় তাহলো জহুরুল ইসলাম (এডি-৮) এমপিওকে কারিগরি অধিদপ্তর থেকে অপসারণ করতে হবে এবং হবেই পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের স্বার্থে তিন বছরের বেশী সময় যারা অধিদপ্তরে আছে তাদের বদলি করতে হবে। এই দাবি সকল কারিগরি শিক্ষকদের প্রাণের দাবি।

এই বিষয়ে সচিব বলেন, জহুরুল ইসলাম (এডি-৮) এমপিও কে বদলির জন্য কারিগরির মহাপরিচালককে বলে দেওয়া হয়েছে।

সচিবের সথে দেখা করতে আসা শিক্ষক প্রতিনিধি দলের কাছে এই প্রতিবেদক জানতে চান যে, নীতিমালা পরিবর্তন হচ্ছে আপনাদের সমস্যার কথা সচিব শুনেছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন এখন তো আপনাদের আর আন্দলোন কর্মসুচিতে যেতে হচ্ছে না।

উত্তরে একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সচিব স্যার বলে দিয়েছেন কিন্তু মহাপরিচালক স্যার এখনও জহুরুলকে বদলি করেন নাই আর তাছাড়া আমাদের সান্তনা দেবার জন্য বদলি করে অধিদপ্তরের ভিতরে রেখে দিয়ে একমাস পর জহুরুল ইসলামকে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে আবারও স্বপদে আগের চেয়ারে এনে বসাবে সেটা হবে না।

দিনাজপুর ও বরিশালের দুইজন শিক্ষক বলেন, আমরা তাকে চাইনা জেনেও জহুরুল ইসলাম (এডি-৮) এমপিও চেয়ার কেন ছাড়তে চায়না সেটা বোকা মানুষও বোঝে আর মাননীয় মন্ত্রী সচিব স্যার বোঝেনা এটা মানতে পারছি না। শুধু জহুরুল ইসলামকে একা নয় পুরো সিন্ডিকেটকে বদলি করতে। সিন্ডিকেট কারা জানতে চাওয়া হলে শিক্ষকরা নাম উল্লেখ করে বলেন, কার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ সেটও বলেন।

মাগুড়ার এক অধ্যক্ষ ও পাঁচবিবি,জয়পুরহাটের অধ্যক্ষ মোঃ রোস্তম আলী বলেন, আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও আমাদের শেষ আশ্রয় স্থল মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই, যদি আমাদের শত শত শিক্ষক কর্মচারীর পরিবারকে মানুষ মনে করেন আমাদের ও আমাদের সন্তানদের প্রতি আপনাদের মায়া থাকে তাহলে, মহাপরিচালক সানোয়ার হোসেন,যুদ্ধাপরাধীর স্বাধীনতা বিরোধী সাজাপ্রাপ্ত নিজামির একান্ত সচিব পরিচালক (প্রশাসন) মনজুরুল কাদের, জহুরুল ইসলাম(এডি-৮) এমপিও, সংযুক্ত কর্মকর্তা (আইন) রেজা হাসান মাহমুদ,সংযুক্ত কর্মকর্তা (এমপিও) বিশ্বজিৎ দে কে সরিয়ে দিন। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর রাহু মুক্ত হবে। আমরা শিক্ষকরা বাঁচতে পারবো, দেশ দক্ষ কারিগরি জনবল পাবে।

মহাপরিচালক মোঃ সনোয়ার হোসেন

“ মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ”
বর্তমানে কারিগরি অধিদপ্তর অকার্যকর বললে ভুল হবে না। মহাপরিচালক মোঃ সনোয়ার হোসেন বাইপাস সার্জারী করায় করোনার ভয়ে কারো সাথে দেখা করেন না, কারো ফোন ও ধরেন না। আগামী মার্চে মহাপরিচালক সানোয়ার হোসেনের চাকুরীর মেয়াদ শেষ হবে।

তিনি পুরোপুরি জহুরুল ইসলাম (এডি-৮) এমপিও এর উপর নির্ভরশীল তার মিটিংগুলোতে প্রতিনিধি হিসাবে জহুরুলকে পাঠান। জহুরুলের সাথে তার ব্যাক্তিগত সম্পর্ক ভালো। শিক্ষকরা কোন কাজে বা অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক হিসাবে তাকে পায় না আর দীর্ঘ দিন অভিভাবক হীন একটা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।

যেখানে করোনা মহামরির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী রাত দিন এক করে শক্ত হাতে দেশ পরিচালনা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ, সেখানে একজন মহাপরিচাকের কারনে কারিগরি শিক্ষা পিছিয়ে পড়তে পারে না। কারিগরি শিক্ষা উন্নয়নের অংশিদার।

জহুরুল ইসলাম

“ এডি-৮ এমপিও জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নাই ”
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষা নীতিমালা দিয়ে পরিচালিত হয় না পরিচালিত হয় জহুরুল ইসলাম (এডি-৮) এমপিও র খেয়াল খুশির নীতিমালায়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও ইউএনওদের কাগজের কোন মূল্য নাই জহুরুল ইসলামের কাছে। যার সাথে জহুরুল ইসলামের বোঝাপড়ায় সম্পর্ক ভালো তার বিষয়ে সাত খুন মাপ, আর যার সাথে বোঝাপড়া হয় না তার রক্ষা নাই।

রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার পীরগঞ্জ টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের প্রভাষক মোঃ আব্দুর রউফ লিটন ১৫ বছর চাকুরী করে বেতন ভাতা ও টাইম স্কেল পাওয়ার পর হঠাৎ করে প্রশিক্ষন সনদ সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের নয় বলে বেতন বন্ধের সুপারিশ করেন, আবার একই প্রতিষ্ঠানের সনদধারী নওগাঁ জেলার বান্দাই খাডা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদের বেতন দেওয়া গেলনা বলে সুপারিশ করেন।

অথচ রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার পীরগঞ্জ টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল আজীজের সনদ জাল প্রমানীত হবার পরেও এমপিও শীট থেকে নাম বাদ দেননি।

২৩ অক্টোবর ২০১৯ সালে ২৭৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও ভুক্তির ঘোষনা পত্রে জহুরুল ইসলাম নিজস্ব নীতিমালা যথাযথ প্রয়োগ করেছেন। এমপিও ভুক্তির চাহিদা শর্তের ১৭ নম্বারে বলা হয়েছে নিয়োগকালীন বিধি-বিধান অনুযায়ী নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি/সমমান চাওয়া হলে এইচএসসি সমমান হিসাবে ৪ বছর মেয়াদী কৃষি ডিপ্লোমা পাশের সনদ দেবার পরেও জহুরুল ইসলামের কমন কথা কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা (এইচএসসি সনদ) নেই বলে উল্লেখ করেছেন। এক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এইচএসসি সমমান হিসাবে কৃষি ডিপ্লোমা পাশের সনদ দিয়ে রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়,পাঁচবিবি,জয়পুরহাটে নিম্নমান সহকারী পদে এমপিও ভুক্ত করেছেন। চাহিদা শর্তের ১৯ নম্বরে বলা হয়েছে কোন কোন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ডেমোনোষ্ট্রেটর পদের কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ( বিএসসি/বিকম সনদ) নাই বলা হয়েছে। 0৪/০২/ ২০১০ এ প্রণীত,মার্চ ২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞান/বানিজ্য বিষয়ে ২য় শ্রেণীর স্নাতক/সমমান এবং সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হতে কম্পিউটার বিষয়ে নূন্যতম ৬ মাসের প্রশিক্ষন থাকলেই হবে।

অবাক করার বিষয় হলো কম্পিউটার ডেমোনোষ্ট্রেটরদের দীর্ঘ দিনের দাবী দশম কোডে বেতন যা জহুরুল সংশোধিত ২০২০ নীতিমালা প্রনয়নের সময় জহুরুল কমিটিতে উপস্থাপন করেননি কিন্তু নিজের নীতিমালায় কয়েকজন কম্পিউটার ডেমোনোষ্ট্রেটরকে দশম কোডে বেতন দেবার জন্য এমপিও শীটে নাম তুলে দিয়েছেন যা অক্টোবর ২০১৯ সাল থেকে কার্যকর হবে উল্লেখ করেছেন।

তাহলে সাধারণ ভাবেই প্রশ্ন আসে যাদের নাম এমপিও শীটে জহুরুল দিয়েছে তাদের টাকা আসবে কোন বাজেট থেকে। অথচ এমপিও শীটের ৩১ চাহিদা শর্তে প্রত্যেকটিতে জহুরুল নিজে শিক্ষকদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করা হয়েছে। জহুরুলের বহুমুখী আচরনই বলে দেয় প্রতিষ্ঠান চালানোর যোগ্যতা সে অনেক আগেই হারিয়েছে।

জহুরুলের অপমানিত নির্যাতিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া মনোয়ারা জামান কৃষি কলেজের ( মাগুড়া-২ আসনের সাংসদ- সাইফুজ্জামান শিখরের মায়ের নামে কলেজ) অধ্যক্ষ মো: মশিউর রহমান ও ঝালকাঠী টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ, সদর, ঝালকাঠী প্রতিষ্ঠাতা মৃত অধ্যক্ষ আবু সাঈদের স্ত্রী দেলোয়ারা সাঈদ তার আইডল মানীয় শিক্ষা মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকেই তাকিয়ে আছেন তারা অবশ্যই জহুরুল ইসলাম গং এর বিচার করবেন।

বিশ্ব জিৎ দে

“ বিশ্ব জিৎ দে অভিযুক্ত দূর্নীতিতে ”
মোঃ ইউনুস আলী ০৫/০৯/২০১৬ সালে শিক্ষা মন্ত্রালয়ে দূনীতির তদন্তের অবেদনে উল্লেখ করেন ২০১৬ সালে এপ্রিল মাসে এইচ এস সি (বিএম) পরীক্ষায় নিয়ম বহিঃভূতভাবে সংযুক্ত কর্মকর্তা পরীক্ষা পরিদর্শনে গিয়ে বিশ্বজিৎ দে বরিশাল অঞ্জলের আতাহার উদ্দিন বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট কলেজ বাকেরগন্জ ,বরিশাল ইসলামীয়া কলেজ বরিশাল সদর, পিরোজপুর ইসলামী কলেজ পিরোজপুর সদর,পশ্চিম সোহাগদল শহীদ স্মৃতি বিএম কলেজ , নেসারাবাদ পিরোজপুর উক্ত কলেজ গুলো এমপিও ভুক্ত কাজ করে মোটা অংকের টাকা গ্রহন করে, এপ্রিল ও মে-২০১৬ সালে মিটিংয়ে এমপিও ভুক্ত করে দেন।

২৫/১০/২০১৬ সালে উপসচিব মোঃ এনামুল হক স্বাক্ষরিত (স্বারক নং ৩৭,০০,০০০০,০৭৪,০২৯,০০৩,২০১৫,৫১১) কারিগরি মহাপরিচালককে জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরনের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি।

অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি দূর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করতে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তদন্ত হয়নি। শিক্ষকরা চান বিশ্বজিৎ সহ তার সহযোগিদের দূর্নীতি দুদক তদন্ত করুক।

ড. রেজা হাসান মাহমুদ

“ ড. রেজা হাসান মাহমুদ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ”
সংযুক্ত কর্মকর্তা (আইন) শাখার দ্বায়িত্ব পালন করেন। কিন্ত তথ্য অধিকার আইন জানেন কি না সন্দেহ আছে, যদি জেনে থাকেন তাহলে সেটা মানেন না।

২০১৬-২০১৭ সালে সারা বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষকদের অজান্তে কোড পরিপর্তন হয়ে যায়। শিক্ষকরা জানতেও পারে না জানার কথাও নয় কারন শিক্ষদের কোড নিয়ন্ত্রন করেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।

শিক্ষকরা জানতে পারেন তখন যখন এমপিও শীটে তাদের নাম স্টপ পেমেন্ট দেখানো হয়। তারপর সেই শিক্ষদের কিছুদিন পর এমপিও শীট থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়। অনেক শিক্ষককে অধিদপ্তরে ডেকে জানতে চাওয়া হয় কি ভাবে এমপিও কোড পরিবর্তন হলো। হাস্যকরও বটে কোড নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে আর কলেজে থাকা শিক্ষকদের ডেকে জেরা করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত শিক্ষকদেরকে অপরাধী বানিয়ে এমপিও বাতিল করা হয়।

নিরুপাই অসংখ্য শিক্ষকরা হাইকোর্টে বিভাগে রীট পিটিশন করেন। হাইকোর্টর আদেশে অধিদপ্তরের এমপিও বাতিলে সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। বিনা দোষে দোষি শিক্ষকরা কোর্টের আদেশের জাবেদা নকলের কপি সহ মহাপরিচালক বরাবর এমপিও পুনঃছাড়করনের জন্য আবেদন করেন। কোর্ট আদেশের কপি ও আবেদন রেজা হাসান মাহমুদের হাতে পড়ে থাকে দিনের পর দিন মাসের পর মাস। শিক্ষকরা রেজা হাসান মাহমুদের সাথে দেখা করলে প্রথম দিকে বলেন আপনাকে আসতে হবে না আমি দিয়ে দিবো কিন্তু এমপিও আর ছাড়করন হয়না। পরবর্তীতে শিক্ষকরা যোগাযোগ করলে রেজা হাসান মাহমুদ বিরক্ত হয়ে বলেন, আমি কি আপনার জন্য বসে আছি!

আমাকে অফিসের কাজ করতে হয়। প্রশ্ন হলো তাহলে রেজা হাসান মাহমুদ অফিসে কাদের কাজ করেন? তাই শিক্ষকরা মনে করেন রেজা হাসান মাহমুদের জায়গায় একজন যোগ্য কাউকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হলে আইন শাখায় শতশত ফাইল পরে থাকবেনা শিক্ষকরাও হয়রানি হবেন না।

সচিব বলে দেওয়ার পরেও যদি জহুরুল ইসলাম সহ অন্যদের অপসারন না করা হয় তাহলে আপনাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে জানতে চাওয়া হলে শিক্ষকরা বলেন, আমাদের সচিব মহদোয়ের কথার প্রতি আস্থা আছে তবুও যদি জহুরুল ইসলাম গংদের অপসারন না করা হয় তাহলে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবী জানাবো তাতেও কাজ না হলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাও করে দাবী মানার জন্য আল্টিমেটাম দিবো।

আমরা পুরো শিক্ষক সমাজ বিশ্বাস করি আমাদের শিক্ষা বান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী তিনি সদয় হয়ে কারিগরি শিক্ষাকে বাঁচানোর স্বার্থে আমাদের যৌকতিক দাবীর পক্ষে জোরালো পদক্ষেপ নিবেন।

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com