শিরোনাম :
মাধ্যমিকের স্কুল ও মাদ্রাসায় বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না: শিক্ষামন্ত্রী জাতীয়করণসহ ৭ দফা দাবিতে ঝিনাইদহে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের মানববন্ধন হরিণাকুন্ডতে বাংলাদেশ কৃষকলীগের পৌর সম্মেলন অনুষ্ঠিত মায়ানমার সীমান্তে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত গাজীপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা শ্রীপুরে ডেন্টাল ডাঃ এমদাদের হাতে তরুনির শীলতাহানি।অভিযোগ থানায় সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উপ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে বীরগঞ্জে শ্রী শ্রী ধনেশ্বনরী মন্দির উদ্বোধন করলেন মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি ঢাক ঢোল বংশীর সূরে বিশ্বজননীয় এসেছে আঙ্গিনায়” ইসলামপুরে ২০টি পুজা মন্ডপে উদযাপিত হচ্ছে দূর্গাৎসব শায়েস্তাগঞ্জে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে রোডে বাস-মাইক্রোর মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ১০


সরিষাবাড়ীতে উদার সমবায় সমিতির টাকা ফেরত দিচ্ছে গ্রাহকদের

গুলজার হোসেন সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি ঃ সরিষাবাড়ী পৌরসভাস্থ আরামনগর বাজারের সৃষ্ট উদার সমবায় সমিতি বৈশ্বিক মহামারি কোরনায় বেহাল দশায় পড়েও তারা পালিয়ে যায়নি বরং উদার মনেই ফেরত দিচ্ছে প্রতিদিন গ্রাহকদের সঞ্চিত টাকা।

এমন কথাই জানালেন সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাঁরা বলেন, সাম্প্রতিককালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে “সরিষাবাড়ীতে গ্রাহকদের টাকা নিয়ে সমবায় সমিতি উধাও,দিশেহারা গ্রাহকগণ “এমন শিরোনামে একটি ভুল ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশিত হয়। তাই সমিতির কর্তৃপক্ষ এ সংবাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম মজনু বলেন, আমরা ২০১০ সালে আরামনগর বাজারে ঊষা নামে একটি ক্ষুদ্র দৈনিক সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি চালু করি এবং দুই বৎসর সমিতিটি সফলতার সহিত চলার পর ২০১২ সালে উপজেলা সমবায় অধিদপ্তর হতে উদার সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিঃ নামে একটি রেজিস্টেশন নেই। যার রেজিঃ নং- ৩০৫।

উদার সমবায় সমিতি প্রথম জুন প্রকল্প চালু করে। যেটি ২০১২/১৯ পর্যন্ত একটানা ৭ বছর খুবই সুন্দর ও সফলতার সহিত চলে। পরবর্তীতে সমিতিটি দুটি অংশে বিভক্তি করে সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম মজনু জানুয়ারি প্রকল্প নামে আরেকটি প্রকল্প চালু করেন এবং সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বৈশাখী প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প চালু করেন। কিন্তু প্রতিটি প্রকল্পই উদারের নামে পরিচালিত হয়।

জুন ও জানুয়ারি প্রকল্পের স্বত্ত্বাধিকারী জহুরুল ইসলাম মজনু বলেন, আমার ২টি প্রকল্পের আওতায় মোট ৮১০ জন সদস্য রয়েছে। তন্মধ্যে সমিতিতে সদস্যদের মোট সঞ্চয় জমা রয়েছে ৮৪ লক্ষ ৬ হাজার ৩’শ ৮৫ টাকা এবং সমিতি সদস্যদের কাছে ঋণ বাবদ পায় ৩৬ লক্ষ ৮ হাজার ৮’শ ২০ টাকা। বাকি ৪৭ লক্ষ ৭ হাজার ৫’শ ৬৫ টাকা সদস্যরা সমিতির কাছে সঞ্চয় বাবদ পেলেও ইতিমধ্যে সমিতির ৫৩৫ জন সদস্যকে ৩৯ লক্ষ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছে বলে জানা যায়। সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম মজনু বলেন বাকি ২৭৫ জন সদস্য ৮ লক্ষ ৭ হাজার ৫’শ ৬৫ টাকা সমিতির কাছে পেলেও সমিতি কিন্তু গ্রাহকদের কাছে ৩৬ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে পান।

কিন্তু এ টাকা উত্তোলন বা চাইতে গেলে গ্রাহককেরা বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের দোহাই দিয়ে সাফ না করে দেন, তাঁরা কোন কিস্তি দিতে পারবেনা। অপরদিকে এনজিও তথা সমিতিগুলোর উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় করোনাকালীন সময় কোন প্রকার কিস্তি আদায় করতে পারেনি সমিতি।

এমতাবস্থায় গ্রাহকদের সঞ্চয়ী বইগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় সকল গ্রাহক একসাথেই টাকাগুলো ফেরত চান বলে জানান সমিতির সভাপতি। উদার সমবায় সমিতি গ্রাহকদের চাপে কোন কূলকিনারা খোঁজে না পেয়ে পরিশেষে উদার পরিবহনের একটি দুরপাল্লার বাস বিক্রি করে গ্রাহকদের সঞ্চিত টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি টাকাগুলো আরও দুটি বাস বিক্রি করে অচিরেই গ্রাহকদের সঞ্চয়াদি পরিশোধ করবেন বলে জানান সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম মজনু।

অপরদিকে উদার সমবায় সমিতির বৈশাখী প্রকল্পের স্বত্ত্বাধিকারী জহুরুল ইসলাম জানান, তাঁর প্রকল্পের আওতায় সদস্য সংখ্যা ছিল ৫১০ জন। গ্রাহককের সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ৮ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে। বর্তমানে তিনি ৪৬৯ জন সদস্যকে ৯৭ লক্ষ ৯ হাজার ৯’শ ৪০ টাকা ফেরত দিয়েছেন এবং বাকি ৪১ জন সদস্যদের ১৪ লক্ষ টাকা অবিলম্বেই ফেরত দিবেন বলে জানান।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, টাকার চেয়ে ইজ্জতের দাম অনেক বেশী। তাই নিজের থাকার বাসাটি সহ বাবা’র ২৩ শতাংশ আবাদি জমি বিক্রি করে এই ঋণ পরিশোধ করছি। আগামী দুয়েক মাসের মধ্যে আর কোন গ্রাহক উদার সমবায় সমিতির কাছে টাকা চাওয়ার মত পাওনাদার থাকবেনা চোখের সম্মুখে। এদিকে আরামনগর বাজারস্থ উদার সমবায় সমিতির সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায়, উদার সমিতির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক সত্যিই খুব উদার ও মানবিক। তাঁরা একে একে প্রত্যেকেরি সঞ্চয় ফেরত দিচ্ছে এবং দিবে।

তাদের প্রতি সকলেরি আত্মবিশ্বাস রয়েছে তাঁরা পালিয়ে বা হারিয়ে যাবেনা এবং কারো টাকা আত্মসাৎ করবেনা বলে জানানা সাধারণ গ্রাহককেরা। আরামনগর বাজারের সভাপতি হাজী মোঃ মুস্তাক হোসেন বলেন,বিষয়টি আমি জানি,তাঁরা সকলেরি টাকা ফেরত দিচ্ছে এবং দিবে।

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com