শিরোনাম :
মাধ্যমিকের স্কুল ও মাদ্রাসায় বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না: শিক্ষামন্ত্রী জাতীয়করণসহ ৭ দফা দাবিতে ঝিনাইদহে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের মানববন্ধন হরিণাকুন্ডতে বাংলাদেশ কৃষকলীগের পৌর সম্মেলন অনুষ্ঠিত মায়ানমার সীমান্তে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত গাজীপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা শ্রীপুরে ডেন্টাল ডাঃ এমদাদের হাতে তরুনির শীলতাহানি।অভিযোগ থানায় সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উপ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে বীরগঞ্জে শ্রী শ্রী ধনেশ্বনরী মন্দির উদ্বোধন করলেন মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি ঢাক ঢোল বংশীর সূরে বিশ্বজননীয় এসেছে আঙ্গিনায়” ইসলামপুরে ২০টি পুজা মন্ডপে উদযাপিত হচ্ছে দূর্গাৎসব শায়েস্তাগঞ্জে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে রোডে বাস-মাইক্রোর মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ১০


মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়ে মরতে চান ফালান মিয়া

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাঙ্গালী জাতীয় জীবনে একটি চেতনা ও অর্জনের নাম। স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা জীবন বাজি রেখে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদেরকে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বলে আখ্যায়িত করা হয়। যা মুক্তিযোদ্ধাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

মুক্তিযোদ্ধাদের এই বীরত্বগাঁথা সংগ্রামে ইতিহাস যেমন জাতিকে গর্বিত করে তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বঞ্চনা আর যথাযত সম্মান না পাওয়ার বিষয়টি ব্যাতিত করে।

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হতে শুনা যায় ৯ মাস যুদ্ধ করেও স্বীকৃতি না পাওয়ার আক্ষেপ। সুযোগ সন্ধানি কিছু স্বার্থপর মানুষ যুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি হয়েছেন। তাই ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার হালনাগাদ হলেও মামু, দোলাভাই, তদবীর না থাকায় তালিকায় আসেনা না অনেক সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধার নাম।

অবহেলা অযত্নে পরে থাকে সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধার গল্প। তেমনি ৭১’র এক সম্মুখ যোদ্ধা মোঃ ফালান মিয়া,পিতামৃতঃ ছফির উদ্দিন, মাতার নাম মৃতঃ মোছাঃ আমেনা খাতুন। তাঁর বাড়ি দোয়ারাবাজার উপজেলার ৮নং বগুলা বাজার ইউনিয়নের গাছগড়া গ্রামে।

মোঃ ফালান মিয়া স্বাধীনতা যুদ্ধে ইন্ডিয়া উইথ ক্যাম্পের অধীনে ছাতকের সেলা সাবসেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার শহিদ মিয়ার অধীনে শতাদিক বাঙ্গালী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ফালান মিয়া তাদের ইউনিয়নের কাঠাল বাড়ীর আব্দুল আজিজ বর্তমানে ভাতাভোগী ও একই গ্রামে হাকিম উদ্দিন ওরা বর্তমানে ভাতাভোগী একই সাথে ইন্ডিয়া ইউথ ক্যাম্পে ২৪ দিন প্রশিক্ষকনে কর্ণেল এম এ জি ওসমানির সাক্ষরিত সনদপত্র লাভ করেন।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকায় দোয়ারাবাজারে তালিকায় নাম উঠানোর জন্য উপজেলা কমান্ডার মোঃ সফর আলীর সাথে ও বগুলা ইউনিয়নের কমান্ডার আব্দুল কাদিরের সাথে বার বার যোগাযোগ করেন ফালান মিয়া।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধা বাচাইয়ে সাক্ষাতকার না দেয়ায় ফালান মিয়ার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। দীর্ঘদিন যাবৎ অনেক চেষ্টা তদবীর করার পরও মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকায় তাঁর নাম লিপিবদ্ধ হয়নি।

নাম অন্তর্ভুক্তি না হওয়ায় মোঃ ফালান মিয়া সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ সুবিদা রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েও তালিকায় নাম না থাকায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতে পারছেন না তিনি।

গায়ের মানুষ মুক্তিযোদ্ধা বলে ডাকলেও কাগজে কলমে তাঁর নাম নেই। ৭০বছর বয়সি মোঃ ফালান মিয়ার এখন ভোগছেন মরণব্যাধী রোগে। মৃত্যুর আগে পেতে চান মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি।

এই আকাঙক্ষায় দিন গুনছেন মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় না পাওয়া মোঃ ফালান মিয়া। মোঃ ফালান মিয়ার সাথে আলাপকালে জানা যায়, ১৯৭১ সাল যখন মুক্তিযোদ্ধের দামামা বাজে তখন পাক হানাদারদের দখলে দেশের প্রতিটি অঞ্চল। চলছে ইতিহাসের সবচেয়ে করুণ হত্যাযজ্ঞের হুলি খেলা।

দেশ মাতৃকার টানে স্বজনদের অগোচরে পাক সৈন্যদের প্রতিহত করতে ভারতের শরণার্থী শিবিরে ছুটেছেন অশংখ্য অল্প বয়সী তরুণেরা। তেমনি কয়েকজন তরুণের দলে ৭১’র আগস্টে যোগ দিয়েছিলো দোয়ারাবাজার উপজেলার তখনকার লক্ষিপুর ইউনিয়নের বর্তমান বগুলা ইউনিয়নের গাছগড়া গ্রাম সহ প্রতিটি গ্রামের একটি দল।

তাদের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন ইয়ং বয়সী তরুণ। মোঃ ফালানটেকেরঘাট হয়ে ইন্ডিয়ান বালাট ইন্ডিয়ান শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। শরণার্থী শিবিরে ২ রাত কাটানোর পর পাথরঘাট মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় স্থান ইয়ুথ ক্যাম্পে অবস্থান করেন। ক্যাম্পে ৫ দিন অবস্থানের পর গাড়ী করে সিলং ইকো ওয়ান ২২ এর প্রশিক্ষণ করে সেলা সাবসেক্টর অধীন সেকশন বিভিন্ন মিশনে এফ এফ হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

যুদ্ধের কথা স্মরণ করলে এখনও গা শিউরে উঠে তাঁর। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর ২২ বছরের টগবগে যুবক এখন বয়সের ভারে ন্যূজ। কমেনি দেশপ্রেমিক যুদ্ধার যুদ্ধকালীন তেজ ।

যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে মোঃ ফালান মিয়া বলেন, আমি দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করেছি। পাক হানাদারের বুলেটের ভয় করিনি। ৪৯ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি পাইনি। অনেক চেষ্টা তদবির করে আজ আমি ক্লান্ত। ভোগছি মরণব্যাধী রোগে। কবে অপারে চলে যাব তার ঠিক নেই। মরার আগে শুধু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি চাই।

মোঃ ফালান মিয়ার ব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার বলেন, মোঃ ফালান মিয়ার নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাই। তবে তার যুদ্ধে অংশগ্রহণের ব্যাপারে অনেকের কাছ থেকে শুনেছি। নাম অন্তর্ভুক্তিকরণের জন্য তিনি অনেকবার আমার কাছে এসেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা হাল নাগাদের বিষয়ে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল। এখন তা বন্ধ আছে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা বাচাই কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন,যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে থাকলে স্বীকৃতি পাওয়াটা একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রাপ্য অধিকার। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তি করতে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল।

মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ ও যাচাই-বাচাই প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির জন্য আদালতে মামলা হওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মোঃ ফালান মিয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, মোঃ ফালান মিয়ার ব্যাপারটি দুঃখজনক। নতুন করে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হলে তিনি যদি নিয়মতান্ত্রিক আবেদন করেন তাহলে তালিকায় অন্তর্ভুক্তিতে আসতে পারবেন।

মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের আহবায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন, ফালান মিয়ার স্বীকৃতি না পাওয়াটি দুঃখজনক। মুক্তিযোদ্ধা হালনাগাদে ব্যাপক দুর্নীতি হওয়ায় প্রক্রিয়াটি বাতিল হয়ে যায়। এখন আর নতুন করে তালিকা প্রনয়ণ হবে কি না জানি না। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে স্বীকৃতিস্বরূপ যথাযত সম্মান প্রদর্শন করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com