শিরোনাম :
আজ জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জে চতুর্থ দফা বন্যার হানা,সুরমার পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত পাবনা-৪ আসনে উপনির্বাচন চলছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০০ জোড়া বেঞ্চ বিতরণ কক্সবাজার জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১,৩৪৭ সদস্যের বদলী পাগলীটি মা হয়েছে বাবা হয়নি কেউ প্রবাসীদের বাস্তব জীবনের গল্প নিয়ে এস এম কামরুজ্জামান সাগরের – অবদান সাপাহারে দীর্ঘ দুই বছরেও ইউনিয়ন ভুমি অফিস ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি পরিদর্শন আব্দুস শহীদ এমপির গোপালগঞ্জ জার্নলিস্ট ফেডারেশনকে কম্পিউটার উপহার দিলেন জেলা প্রশাসক


টাকার জন্যই ৩ কিশোর খুন করে ঝিনাইদহের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য’কে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ সমকামিতার মাধ্যমে এক কিশোরের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানের। দীর্ঘদিন ধরে চলে ফোনালাপ ও সমকামিতা। কিশোরের মোবাইল খরচ, পকেট মানিও দিয়ে আসছিল নুরুজ্জামান। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ব্যাংক থেকে টাকা তোলার কথা শুনেই হত্যার পরিকল্পনা করে ওই কিশোর।

৩ সহযোগিকে নিয়ে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর নুরুজ্জামানের বাড়িতে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনার ১ বছর পর গ্রেফতার করা হয়েছে ওই ৩ কিশোরকে।

মোবাইল ট্রাকিংয়ের ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ধার করেছে ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো:হাসানুজ্জামান। গ্রেফতারকৃতরা হলো-শহরের হামদহ দাসপাড়ার শাহাবুদ্দীনের ছেলে আরাফাত (১৭), শহরের পাওয়ার হাউস পাড়ার মিন্টুর ছেলে নিশান (১৭) ও সদর উপজেলার রতনহাট গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মিরাজ (১৬)।

এ ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে ডিবি পুলিশ। সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, প্রতিবেশী কিশোর আরাফাতের সাথে অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানের স্থানীয় চায়ের দোকান, খাবার হোটেলে দেখা-কথা হওয়ার কারণে সম্পর্ক হয়। ধীরে ধীরে তা সমকামীতায় রূপ নেয়। সমকামীতার কারণে প্রায়ই নুরুজ্জামানের বাড়িয়ে যেত আরাফাত।

দীর্ঘদিন ধরে আরাফাতকে মোবাইল খচর, পকেট মানিও দিত সে। নুরুজ্জামানের স্ত্রী রাশিদা বেগম অসুস্থ হওয়ায় তিনি প্রায়ই হাসপাতালে থাকতেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিদা বেগম অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার জন্য ব্যাংক থেকে টাকা তোলার বিষয়টি আরাফাতকে বলে নুরুজ্জামান।

ঘনিষ্টতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘটনার দিন রাতে আরাফাত ও তার সমবয়সীদের বাসায় ডাকে নুরুজ্জামান। এক বন্ধুকে বাসার নিয়ে পাহাড়ায় রাখেন আরাফাত তার ২ বন্ধুকে নিয়ে রাত ৮ টার দিকে বাসায় যায়। সেখানে সমকামিতায় লিপ্ত হয়। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নুরুজ্জামানকে শ্বাসরোধ, মাথায় ও গোপনাঙ্গে আঘাত করে ঘরে থাকা টিভি, মোবাইল ফোন, কাপড়, প্রসাধনী সামগ্রী একটি ট্রলি ব্যাগে করে নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরদিন সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাশিদা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ সুপার মো: হাসানুজ্জামান।

মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম। ক্লু-লেস হত্যা হওয়ায় তদন্তে বেগ পেতে হয় ওই পুলিশ কর্মকর্তার। শুরুতে লুট হওয়া মোবাইল বন্ধ থাকায় ব্যবহারকারীকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে এলাকায় খোঁজ খবর শুরু করেন পরিদর্শক নজরুল ইসলাম।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আরাফাতের সাথে ঘনিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে প্রথম সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। আরাফাতের সাথে অন্যদের বন্ধুত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাড়ানো হয় সন্দেহের তালিকার সন্ধিগ্ধদের সংখ্যা। পরে মোবাইল ফোনের কললিস্টের সুত্র ব্যবহার করে আরাফাতের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করে আরাফাতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যা বিষয়টি আরাফাত স্বীকার করে।

আরাফাতের স্বীকারোক্তি মোতাবেক সন্দিগ্ধ আরও ৩ জন নিশ্চিত হলে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা নিশান ও মিরাজকে। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া আরও একজন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আরাফাত গত ১৩ সেপ্টেম্বর এবং নিশান ও মিরাজ ১৪ সেপ্টেম্বর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে।

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com