শিরোনাম :
গোপালগঞ্জ জার্নলিস্ট ফেডারেশনকে কম্পিউটার উপহার দিলেন জেলা প্রশাসক হাওর এলাকার ভূমি অবক্ষয় মোকাবেলায় টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে টেন্ডার বহির্ভূত গাছ কাটার অভিযোগ কমলগঞ্জে বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিবসহ ১৪ সদস্যের পদত্যাগ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যূরাল উদ্বোধন দুই পক্ষের কর্মসূচি, দিঘলিয়ার সেনহাটিতে ১৪৪ ধারা জারি গোলাপগঞ্জে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই পুলিশের খাঁচায় মঠবাড়িয়ায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, গ্রেফতার-১ পাঁচটি প্রযুক্তি ডোমেইনের সমন্বয়ে নতুন উপযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শুরু হয়েছে হুয়াওয়ে কানেক্ট ২০২০ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এডভোকেট সৈয়দ আফরোজ বখতের মৃত্যুতে আবু জাহির এমপির শোক প্রকাশ


বাংলা সাহিত্যে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান – শিবব্রত গুহ

শিবব্রত গুহ

শিবব্রত গুহ :: ” মরিলে যদি রণজয় হইত, তবে মরিতাম। বৃথা মৃত্যু বীরের ধর্ম নহে। “

– উপরোক্ত উক্তি কার জানেন? তিনি আর কেউ নন। তিনি হলেন বাংলা সাহিত্যের সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। বাংলা সাহিত্যে প্রচুর মণি – মুক্তো রয়েছে৷ তাদের মধ্যে বঙ্কিমচন্দ্র হলেন
অন্যতম প্রধান।

তিনি ছিলেন উনিশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালী ঔপন্যাসিক। বাংলা গদ্যসাহিত্য ও উপন্যাসের বিকাশে তাঁর অবদান রয়েছে অপরিসীম। তিনি লাভ করেছেন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমরত্ব লাভ। তাঁকেই সাধারণত, বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক ঔপন্যাসিক বলা যেতে পারে।

তবে তিনি গীতার ব্যাখ্যা খুব সুন্দরভাবে করেছিলেন। তাই তাঁকে, অনেকে সাহিত্য সমালোচকও বলে থাকেন। তিনি জীবিকাসূত্রে, ব্রিটিশ সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। কিন্তু, তিনি নিজের দেশ ভারতবর্ষকে খুব খুব ভালোবাসতেন। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ দেশপ্রেমিক।

তাঁর সাহিত্যরচনাতে আমরা বারবার সেই দেশপ্রেমের পরিচয় পাই। তিনি রচনা করেছিলেন বন্দেমাতরম। এই বন্দেমাতরম, পরাধীন ভারতবর্ষে, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মনে জাগিয়েছিল আত্মবিশ্বাস। বন্দেমাতরম আজও দেশ ও দেশবাসীর আত্মার সাথে জড়িয়ে আছে।

বন্দেমাতরম ১৯৩৭ সালে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দ্বারা ভারতের জাতীয় স্তোত্র হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্য সম্ভার অসাধারণ। তাঁর সাহিত্য সৃষ্টির বৈচিত্র্য দেখলে অবাক হয়ে যেতে হয়।

তাঁর প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস কোনটা ছিল জানেন? তা হল দুর্গেশনন্দিনী। যা বাংলা সাহিত্যের দ্বার করেছিল উন্মোচন। তিনি মোট উপন্যাস রচনা করেছিলেন ১৫ টি। তার মধ্যে একটি ইংরেজি ভাষার উপন্যাস ছিল। তিনিই বাংলা ভাষাকে প্রথম সত্যিকারের মর্যাদা দিয়েছিলেন।

তাঁর রচনা বাংলা সাহিত্যে ” বঙ্কিম শৈলী ” অথবা ” বঙ্কিম রীতি ” নামে পরিচিত। তাঁর প্রথম উপন্যাস কিন্তু ছিল ইংরেজি ভাষায়। তার নাম ছিল “Rajmohans Wife “. এটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৬৪ সালে। এটি ” Indian Field ” নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।

বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম বাংলা উপন্যাস ছিল ” দুর্গেশনন্দিনী “। এটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৬৫ সালের মার্চ মাসে। এটি হল একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। তাঁর একটি কাব্যিক উপন্যাসের নাম হল কপালকুন্ডলা।

এটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৬৬ সালে। এটি একটি অসাধারণ উপন্যাস। তিনি যখন মেদিনীপুর জেলার নেগুঁয়া মহকুমায়, অবস্থান করছিলেন , তখন তিনি কিছু বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন, তার সার্থক প্রকাশ ঘটেছিল এই উপন্যাসে।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হল বাংলা সাহিত্যের এক একটি সম্পদ। ১৮৬৯ সালে তিনি রচনা করেছিলেন উপন্যাস ” মৃণালিনী “। এটিও একটি অনবদ্য উপন্যাস । এটি হল একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। এটি রচিত হয়েছিল খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর পটভূমিতে।

১৮৭৩ সালে তিনি রচনা করেছিলেন উপন্যাস ” বিষবৃক্ষ “। এটি একটি সামাজিক উপন্যাস। তাঁর আর একটি উপন্যাসের নাম হল ইন্দিরা। এটি একটি অনু – উপন্যাস। বঙ্গদর্শন পত্রিকায় এটি ছোটগল্পের আকারে প্রকাশিত হয়েছিল।

১৮৭৪ সালে, তিনি একটি ঐতিহাসিক অনু -রচনা করেছিলেন। তার নাম হল যুগলাঙ্গুরীয়।
১৮৭৫ সালে, তিনি রচনা করেছিলেন এক রোম্যান্সধর্মী উপন্যাস। তার নাম হল চন্দ্রশেখর। বঙ্কিমচন্দ্রের একটা অনু – উপন্যাসের নাম হল রাধারাণী। এটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৮৬ সালে। এছাড়া , তাঁর রচিত উপন্যাসগুলির মধ্যে দেবী চৌধুরানী, সীতারাম, আনন্দমঠ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৩৮ সালের ২৭ শে জুন, আমাদের দেশ ভারতবর্ষের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে। তাঁদের আদিনিবাস ছিল হুগলি জেলার দেশমুখো গ্রামে।

তাঁর ছদ্মনাম কি ছিল জানেন? তাঁর ছদ্মনাম ছিল কমলাকান্ত। তিনি অনেক গুলি অসাধারণ প্রবন্ধ গ্রন্থ লিখেছিলেন। তাদের মধ্যে, কমলাকান্তের দপ্তর, লোকরহস্য, কৃষ্ণ চরিত্র, বিজ্ঞানরহস্য, বিবিধ সমালোচনা, সাম্য প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

বঙ্কিমচন্দ্র হলেন বাংলা সাহিত্যের সাহিত্যসম্রাট।
তিনি সারাজীবন ধরে সাহিত্যসম্রাটের মতো বাংলা সাহিত্যের জগতে করেছেন বিচরণ।
বাংলা সাহিত্যে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান
অপরিসীম – তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

( তথ্য সংগৃহীত)

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com