শিরোনাম :
পাবনা-৪ আসনে উপনির্বাচন চলছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০০ জোড়া বেঞ্চ বিতরণ কক্সবাজার জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১,৩৪৭ সদস্যের বদলী পাগলীটি মা হয়েছে বাবা হয়নি কেউ প্রবাসীদের বাস্তব জীবনের গল্প নিয়ে এস এম কামরুজ্জামান সাগরের – অবদান সাপাহারে দীর্ঘ দুই বছরেও ইউনিয়ন ভুমি অফিস ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি পরিদর্শন আব্দুস শহীদ এমপির গোপালগঞ্জ জার্নলিস্ট ফেডারেশনকে কম্পিউটার উপহার দিলেন জেলা প্রশাসক হাওর এলাকার ভূমি অবক্ষয় মোকাবেলায় টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে টেন্ডার বহির্ভূত গাছ কাটার অভিযোগ


সুনামগঞ্জ পর্যটক শূন্য টাঙ্গুয়ার হাওর

অরুন চক্রবর্তী :: ঈদের সময় সুনামগঞ্জের মেঘালয় সীমান্তে অবস্থিত তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর ভিড় জমান পর্যটকেরা। তবে করোনার কারণে এবার ঈদে দেখা নেই পর্যটকের।

হাওরে বিশাল জলরাশি। কখনো ঢেউয়ে উথাল-পাতাল, আবার কখনো মৃদুমন্দ বাতাসে জলের ওপর মিষ্টি রোদের খেলা। সারি সারি হিজল-করচগাছ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এখানে-ওখানে। গাছে পাখির কলতান। নীল আকাশ ছায়া ফেলে জলের ওপর।

উত্তরে তাকালেই হাতছানি দেয় মেঘালয় পাহাড়। একসঙ্গে জল, জোছনা আর পাহাড়ের মেলবন্ধন চোখে পড়ে টাক্সগুয়ার হাওরে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত
টাঙ্গুয়ার হাওর তাই পর্যটকদের প্রিয় স্থান। কিন্তু চার মাস ধরে হাওরে পর্যটক নেই।

হাওর জুড়ে এখন সুনসান নীরবতা। হাওরে জলের খেলা, গাছ-পাখি আর মাছের মেলা দেখার যেন কেউ নেই। করোনাকাল সবকিছু বদলে দিয়েছে। অথচ বছরের এ সময়টায় হাওরে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। ঈদের ছুটির দিনগুলোয় বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।

পর্যটকে দিনে-রাতে মুখর থাকে টাক্সগুয়ার হাওর,হাওরপাড়ের শহীদ সিরাজ লেক, লেকের পাড়ে সবুজে মোড়া ছোট ছোট টিলা, টেকেরঘাট, বারেক টিলা, যাদুকাটা নদী, শিমুলবাগান। হাওরে নৌকায় রাতযাপন আর গানবাজনার সঙ্গে জোছনা উপভোগ ভ্রমণে নতুন মাত্রা জোগায়। বছরজুড়ে এখানে পর্যটক আসা-যাওয়া থাকলেও বর্ষায় আসেন বেশি। এতে নানাভাবে উপকৃত হন এলাকায় হাজারো মানুষ।

বাজারের মুদি দোকানি থেকে শুরু করে নৌকা ও ¯িপডবোটের মালিক, মাঝি, শিল্পী, পাচক; লেগুনা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের চালক, গেস্টহাউসের মালিক—আরও কত রকমের লোকজন। এলাকায় অন্তত তিন হাজার পরিবার হাওরকেন্দ্রিক এই পর্যটন থেকে বছরজুড়ের নানাভাবে উপকৃত হয়। কিন্তু এখন এসব পরিবারের মানুষ কষ্টে আছে।

অনেকেই কর্মহীন, কারও নৌযান পড়ে আছে দিনের পর দিন, গেস্ট হাউসে তালা ঝুলছে। পবিত্র ঈদুল আজহা নিয়ে একটা আশা ছিল তাদের মনে। কিন্তু সেই আশা নিরাশায় পরিণত হয় যখন প্রশাসন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় হাওরে পর্যটকদের ভ্রমণে পুরোনো নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ।

করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত ১৯ মার্চ থেকে হাওরে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা প্রশাসন। তবে এ নিয়ে এত দিন তেমন একটা আলোচনা ছিল না। যে কারণে এবারের ঈদের আগে-পরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাওরে আসতে কিছু পর্যটক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

এ জন্য হাওরে নৌযান ভাড়াসহ নানাভাবে তাঁরা যোগাযোগ করেন। কিন্তু এক সময় সব প্রস্তুতি বাতিল করতে হয়েছে। ঈদের সময় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার
টাঙ্গুয়ার হাওরে ভিড় জমান পর্যটকেরা। তবে করোনার কারণে এবার ঈদে দেখা নেই পর্যটকের।

এমডি মুরাদ বলেন, সবকিছুই তো সীমিত পরিসরে চলছে। এখানেও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে সীমিত পরিসরে হলেও পর্যটকেরা আসতে পারেন, সেই সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত লোকজন যে কষ্টে আছে, সেটি কিছুটা হলেও কমবে।

হাওর-পাড়ের টেকেরঘাট এলাকার স্বাধীন বাংলা মোটরসাইকেল চালক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, করোনো শুরু পর থেকে চালকেরা বেকার। একেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে একেকটি পরিবার যুক্ত। এমন দিনে তাঁরা মহাব্যস্ত থাকেন। দিনে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় করতে পারতেন একেকজন মোটর সাইকে লচালক। কিন্তু এখন খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে তাঁদের।

হোসেন আলী নামের এক মোটর সাইকেল চালক বলেন, ঈদের পর পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাওরে আসতে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য তিনি ১৪টি নৌকা বুকিং দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে যখন জানতে পারেন পর্যটকদের আসতে দেওয়া হবে না, তখন সব বাতিল করেছেন।

সুনামগঞ্জ শহরের নাট্যকর্মী মেহেদী হাসান বলেন, তাঁরা দলবলসহ ৫ আগস্ট হাওর ভ্রমণে যেতে চেয়েছিলেন। এ জন্য নৌকা রিজার্ভ, সেখানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। এখন জেনেছেন, হাওরে যেতে দেওয়া হবে না। তাই সব বাতিল করছেন।

জেলার শহরের রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা অমিত রায়ের তিনটি নৌকা রয়েছে। এসব নৌকা সুনামগঞ্জ শহর থেকে পর্যটকদের
টাঙ্গুয়ার হাওরে নিয়ে যায়। ২ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর তিনটি নৌকাই বুকিং ছিল। কিন্তু একই কারণে সব বুকিং বাতিল করতে হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণাসিন্ধু চৌধুরী বলেছেন, প্রতিবছর লাখ খানেক পর্যটক আসেন
টাঙ্গুয়ার হাওর ও এর আশপাশের এলাকায়। এতে আমাদের এলাকার লোকজনও নানাভাবে লাভবান হন। পর্যটক না আসায় এই লোকজন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, এটা ঠিক। কিন্তু করোনার এই মহামারির সময়টায় হাওরে পর্যটকদের আসতে আমরা নিরুৎসাহিত করছি। এটা সবার ভালোর জন্যই। কারণ, অনেকেই জেলার বাইরে থেকে আসবেন। হাওরে ঘুরবেন। স্থানীয়দের সঙ্গে মিশবেন। তাই ঝুঁকি থেকেই যায়।

জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেছেন, করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত ১৯ মার্চ থেকে সুনামগঞ্জে টাক্সগুয়ার হাওর সহ দর্শনীয় স্থানগুলোয় পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। এটি এখনো বলবৎ।

হাওরে পর্যটকেরা এলে দল বেঁধে নৌকায় ঘোরাঘুরি করেন। নৌকায় রাত যাপন করেন। এ ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে না। কারও জন্যই এটি ভালো হবে না। এতে যে কেউ কোভিডে সংক্রমিত হতে পারেন। তাই এখন হাওর এলাকায় পর্যটকদের না আসতে আমরা অনুরোধ করছি। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com