শিরোনাম :
মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নে আবার জ্বলে উঠুক আমাদের বাংলাদেশ ইসলামপুরে এফ এইচ খান বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ ইসলামপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শিক্ষককে মারধর ভোক্তাদের ভিন্নধর্মী ক্যাটারিং অভিজ্ঞতা দিতে হুয়াওয়ের সাথে সোডেক্সো প্রায় ২০০ এর অধিক মৃতের কবর খনন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জুয়েল ও সহযোগী হিমেল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত স্যামসাং আনপ্যাকড ইভেন্ট-ওয়েলকাম টু দ্য এভরিডে এপিক শহিদ মিনারের দাবীতে ইসলামপুরে ৯৭ব্যাচের মানববন্ধন এমদাদুল হক খান চান স্যার স্মৃতি ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ নৌকা হলো উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিক,ব্যক্তিকে নয় নৌকাকে ভালোবাসি


হবিগঞ্জের গুঙ্গিয়াজুরী হাওর: পরিকল্পনা চাষাবাদে খাদ্য উৎপাদন বাড়বে দ্বিগুণ

সৈয়দ মশিউর রহমান :: হবিগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ন এলাকা জুড়ে রয়েছে ঐতিহাসিক গুঙ্গিয়াজুরী হাওর । হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল, নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার বিশাল এলাকা নিয়ে  এ হাওরের অবস্থান। বর্তমানে শুধুই বোরো আবাদ হচ্ছে এ হাওরে। বোরোর পাশাপাশি আউশ ও আমন ধানের চাষ অথবা রবি শষ্যের চাষ হলে এ হাওরে খাদ্য উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে প্রায় দ্বিগুণ।

আর এতে দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকৃত হবে এ চার উপজেলার বিশাল কৃষক জনগোষ্ঠী। এ হাওরটি তিন ফসলী জমির উপযোগী হলেও প্রয়োজনীয় স্লুইসগেট ও হাওররক্ষা বাঁধ তৈরী করে পরিকল্পিত চাষাবাদ না করায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর স্থানীয় কৃষককূলকে তিন ফসল চাষাবাদে আগ্রহী করে তুলতে না পারায় শুধুমাত্র বোরোতেই আটকে আছে হাওরপাড়ের কৃষকদের স্বপ্ন।

কোন কারণে প্রাকৃতিক দূর্যোগে একমাত্র বোরো ফসল হারালে কৃষকদের সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসতে হয়। অথচ, বোরোর পাশাপাশি আউশ, আমন বা রবিশস্য চাষাবাদ করলে এক ফসল মার খেলেও কৃষকদেরকে আর অসহায় হয়ে পথে বসতে হতো না।

গুঙ্গিয়াজুরী হাওরের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে খোয়াই নদী। এ নদীর পানি পরিকল্পিতভাবে হাওরে সেচের ব্যবস্থা এবং বর্ষার মৌসুমে পানি নিস্কাশন  করলে বোরোর পাশাপাশি আউশ ও আমন ধানও চাষাবাদ সম্ভব।

এ ছাড়া রবি শস্যও চাষাবাদ করা যেতে পারে। ফলে পরিকল্পিতভাবে গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে দুই বা তিন ফসলের চাষ হলে বর্তমানের চেয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়বে কমপক্ষে দ্বিগুণ।

গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে দুই বা তিন ফসল চাষের সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা হয় হাওর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে।

তাদের অভিমত, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ এবং নিস্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে এ হাওরে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ বাড়বে। এতে স্থানীয়রা কৃষকরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি এখানের উদ্ধৃত খাদ্য বিদেশেও রপ্তানী করা যাবে।

হাওর পাড়ের কৃষকদের অভিমত, অনেক সময় পানির অভাবে হাওরে বোরো চাষ করা যাচ্ছে না। পরিমাণ মতো পানি পেলে এ হাওরে বোরো ধানের বাম্পার উৎপাদন হবে। এ ছাড়া হাওর থেকে সময় মত পানি সেচের ব্যবস্থা করলে বোরোর পাশাপাশি আমন বা আউশ ধানের চাষাবাদও করা যাবে। এতে হাওর এলাকার  কৃষকরা অনেক উপকৃত হবে।

বাহুবল উপজেলার খাগাউড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ তোফায়েল  জানান, গ্রামবাসীর বিস্তির্ণ চাষের জমি গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে অবস্থিত। তবে, তারা বোরো বাদে আর কোন ফসল চাষ করেন না।

তিনি বলেন, সেচের মাধ্যমে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে এ হাওরে আমন চাষাবাদও সম্ভব। হাওরে পরিকল্পিতভাবে বোরোর পাশাপাশি আউশ, আমন ধান চাষ ও রবি শস্য উৎপাদন করা যেতে পারে বলে  আর এতে করে খাদ্য শস্য বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

এ ব্যাপারে তথ্য জানতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্যা) কৃষিবিদ মোঃ জালাল উদ্দিনের সরকারি মুঠোফোনে (যার নাম্বার ০১৭০০৭১৫৩৪৪) ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত মুঠোফোনে (যার নাম্বার ০১৭১৫৮৮৩৬৭২) বার বার ফোন দিলে তিনি একবার রিসিভ করে কেটে দেন।

এরপর আর তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে গুঙ্গিয়াজুরী হাওরের তেঘরিয়া ইউনিয়ন অংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান দৈনিক বর্তমান খবরকে বলেন, পরিকল্পিত ভাবে চাষাবাদ করলে গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে দুই বা তিন ফসল চাষাবাদ সম্ভব। তবে, এজন্য কয়েকটি স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে।

তিনি জানান, এ হাওরে দুই বা তিন ফসল চাষাবাদ করতে আগাম বন্যার হাত থেকে হাওরটি রক্ষা করতে হবে।

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com