শিরোনাম :
গোপালগঞ্জ জার্নলিস্ট ফেডারেশনকে কম্পিউটার উপহার দিলেন জেলা প্রশাসক হাওর এলাকার ভূমি অবক্ষয় মোকাবেলায় টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে টেন্ডার বহির্ভূত গাছ কাটার অভিযোগ কমলগঞ্জে বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিবসহ ১৪ সদস্যের পদত্যাগ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যূরাল উদ্বোধন দুই পক্ষের কর্মসূচি, দিঘলিয়ার সেনহাটিতে ১৪৪ ধারা জারি গোলাপগঞ্জে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই পুলিশের খাঁচায় মঠবাড়িয়ায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, গ্রেফতার-১ পাঁচটি প্রযুক্তি ডোমেইনের সমন্বয়ে নতুন উপযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শুরু হয়েছে হুয়াওয়ে কানেক্ট ২০২০ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এডভোকেট সৈয়দ আফরোজ বখতের মৃত্যুতে আবু জাহির এমপির শোক প্রকাশ


বরগুনার তালতলী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নামেই মাত্র ২০ শয্যা হাসপাতাল রয়েছে

বরগুনা প্রতিনিধি ঃ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বরগুনার তালতলী উপজেলায় নামেই মাত্র রয়েছে ২০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। করোনা মুহুর্তেও উপজেলার আড়াই লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় কোন ভূমিকাই রাখতে পারছেনা হাসপাতালটি। প্রয়োজনীয় জনবল ও ঔষধপত্র সরবরাহ না থাকায় হাসপাতালটির ইনডোর ও আউটডোর চালু করা যাচ্ছেনা।

উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বরাদ্ধ ঔষধপত্র দিয়ে তালতলী ২০ শয্যা হাসপাতালটির কার্যক্রম চালানোর কারনে রোগী ভর্তির ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। এতে চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে এ উপজেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

জানা গেছে, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। সে সময় তার নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী তিনি ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারী আমতলী উপজেলার দক্ষিনের ৩টি ইউনিয়ন (বড়বগী, পচাকোড়ালিয়া ও কড়াইবাড়িয়া) ইউনিয়নকে ভেঙ্গে ৭টি ইউনিয়ন সৃষ্টি করে তালতলীকে উপজেলায় রূপান্তর করেন।

তালতলী উপজেলা সৃষ্টি হওয়ার সাড়ে ৮ বছর অতিবাহিত হলেও এ উপজেলার প্রায় আড়াইলক্ষ মানুষ মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তালতলী উপজেলায় রূপান্তর হওয়ার পর প্রশাসনিক প্রায় সকল অফিসের কার্যক্রম ভালভাবে চললেও শুধুমাত্র ২০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম নাম মাত্র রয়ে গেছে।

এ হাসপাতালটি এখনো আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় তালতলী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবেই পরিচালিত হচ্ছে।

হাসপাতালটি শুক্রবার ব্যতীত অন্যান্য দিনগুলোতে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বাকী সময় বন্ধ থাকে হাসপাতালের সকল প্রকার কার্যক্রম। বন্ধের সময় যদি কোন মুমুর্ষ, গুরুত্বর ও জখমী রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসে সাথে সাথে তাদেরকে আমতলী অথবা পটুয়াখালী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

অপরদিকে হাসপাতালের দোতালার দু’টি কক্ষে ভাঙ্গাচুরা ৫ থেকে ৬টি শয্যা থাকলেও রোগী ভর্তির নেই কোন কার্যক্রম। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যবদি ইনডোর চালু হয়নি। আউটডোর চালুর জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল ও ঔষধপত্র বরাদ্ধ না থাকায় তাও ব্যহত হচ্ছে। জরুরী রোগীদের উন্নত চিকিৎসায় প্রেরনের জন্য হাসপাতালে নেই কোন এ্যাম্বুলেন্স। বর্তমানে ডেপুটেশনে এ হাসপাতালে ৪ জন চিকিৎসক থাকলেও উপস্থিত থাকেন মাত্র ২জন।

করোনা কালীন বরগুনার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে গত ৩১ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সিভিল সার্জনের কাছে জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য সেবা ও জরুরী রোগী বহনে সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে কিনা তা জানতে চান। সে সময় সিভিল সার্জন তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকট, নানাবিধ সমস্যা ও এ্যাম্বুলেন্স না থাকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে বলেননি। তখন সোস্যাল মিডিয়ায় সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী আসন ও তার দেয়া উপজেলার প্রায় আড়াইলক্ষ ভূক্তভোগী মানুষর পক্ষে সোস্যাল মিডিয়ার তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ও ঔষধপত্র সরবরাহ করে দ্রæত হাসপাতালটির ইনডোর ও আউটডোর চালু করে রোগী ভর্তির ব্যাবস্থা করার জন্য জোর দাবী জানানো হচ্ছে।

বড়বগী ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম লিটু জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া তালতলী ২০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নামেই মাত্র আছে। শয্যা থাকলেও রোগী ভর্তির কোন কার্যক্রম নেই। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যবদি পর্যাপ্ত জনবল ও ঔষধপত্র বরাদ্ধের অভাবে ইনডোর চালু হয়নি।

জরুরী রোগী উন্নত চিকিৎসায় প্রেরনের জন্য হাসপাতালে নেই কোন এ্যাম্বুলেন্স। রয়েছে চিকিৎসক সংকট, আড়াই লক্ষ মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র ২জন চিকিৎসক। এ হাসপাতালটি পুর্নাঙ্গ চালুর দাবীতে আমরা তালতলীবাসী আগামীকাল (রবিবার) ডিজিটাল মানববন্ধন করবো। ওই দিন তালতলীবাসী ফেইসবুক লাইভে এসে যার যার অবস্থান থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আমাদের হাসপাতালটির সমস্যার কথা ও যৌক্তিক দাবীগুলো তুলে ধরবো।

তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক মোঃ ফাইজুর রহমান মুঠোফোনে জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তো দূরের কথা একটি হাসপাতাল হিসেবে যে ঔষধপত্র বরাদ্ধ পাওয়ার কথা তা পাইনি। এখানে একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে সেই কেন্দ্রের জন্য বরাদ্ধ দেয়া ঔষধ দিয়ে চালাচ্ছি হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। এ হাসপাতালটিতে জনবলসহ স্বাস্থ্য সেবার রয়েছে নানাবিধ সমস্যা।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ২০ শয্যা বিশিষ্ট তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখনো আমাদের হাসপাতালের আওতায় তালতলী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবেই পরিচালিত হচ্ছে।

উপজেলা আ’লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজবী উল কবির জোমাদ্দার বলেন, দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এমপি মহোদ্বয়কে সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আড়াইলক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নের জন্য ২০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ও ঔষধপত্র সরবরাহ করে দ্রুত হাসপাতালটিতে ইনডোর ও আউটডোর চালু করে রোগী ভর্তির ব্যাবস্থা করার জন্য আবেদন জানাবো।

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com