শিরোনাম :
মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নে আবার জ্বলে উঠুক আমাদের বাংলাদেশ ইসলামপুরে এফ এইচ খান বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ ইসলামপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শিক্ষককে মারধর ভোক্তাদের ভিন্নধর্মী ক্যাটারিং অভিজ্ঞতা দিতে হুয়াওয়ের সাথে সোডেক্সো প্রায় ২০০ এর অধিক মৃতের কবর খনন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জুয়েল ও সহযোগী হিমেল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত স্যামসাং আনপ্যাকড ইভেন্ট-ওয়েলকাম টু দ্য এভরিডে এপিক শহিদ মিনারের দাবীতে ইসলামপুরে ৯৭ব্যাচের মানববন্ধন এমদাদুল হক খান চান স্যার স্মৃতি ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ নৌকা হলো উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিক,ব্যক্তিকে নয় নৌকাকে ভালোবাসি


বাড়ছে চালের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ রোববার (২৪ নভেম্বর) ব্যবসায়ীদের এক অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছিলেন, বর্তমানে দেশে চালের মওজুদ রয়েছে। আমরা চালে সয়ংসম্পূর্ণ। বাজারও নিয়ন্ত্রণে। এক কথায় বলতে পারি চালের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে, বাজারে পরিস্থিতি এর বিপরীত। দাম বেড়েছে সব ধরনের চালের। ক্রেতাকে বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে চাল। এদিকে দেশে ধান ও চালের মজুদ থাকার পরও দাম বাড়ার কোনো কারণ দেখছেন না সাধারণ মানুষ।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, কারওয়ান বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় এসব তথ্যই উঠে এসেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি চালের বাজারে প্রতিবস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ২২৫০ টাকায়, আটাশ চাল ১৭৫০ টাকা, নাজিরশাইল ২৩৫০ থেকে ৩১০০ টাকায়। অথচ মাত্র দশদিন আগে এ বাজারে প্রতিবস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছিলো ২০৫০ টাকায়, আটাশ চাল ১৪৫০ টাকা, নাজিরশাইল ১৯৫০ থেকে ২৭০০ টাকায়। অন্যদিকে, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, নাজিরশাইল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, আটাশ ৪০ টাকা, ঊনত্রিশ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, ¯^র্ণা চাল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, চিনিগুড়া ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ দশদিন আগে বাজারভেদে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা, নাজির ৫০ থেকে ৫২ টাকা, আটাশ ৩৪ টাকা থেকে ৩৫ টাকা, ঊনত্রিশ ৩২ থেকে ৩৫ টাকা, ¯^র্ণা চাল ২৮ থেকে ৩০ টাকা, চিনিগুড়া ৯০ থেকে ৯২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।
পেঁয়াজের পর চালের বাজার দাম বাড়ায় মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের মতোই চালের বাজারেও সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, দাম বাড়ানোর ¶েত্রে সাধারণ ব্যবসায়ীরা দায়ি না। মিলকল মালিকরা বাড়ছে চালের দাম
চালের দাম বাড়িয়েছেন, যার প্রভাব পড়ছে বাজারে। শামিমা সুলতানা নামে শান্তিনগর বাজারের এক ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের মতোই চালের বাজারে সিন্ডিকেট কাজ করছে। এর পেছনে সরকারি কিছু মানুষ দায়ী আছে, অথচ মন্ত্রী বলেছেন বাজার নিয়ন্ত্রণে একাধিক টিম কাজ করছে। বাজার মনিটরিং নেই, চালের দামের সঙ্গে খাদ্যমন্ত্রীর কথার কোনো মিল নেই। এখনই বাজার নিয়ন্ত্রণে না আনলে পেঁয়াজের মতো পরিবেশ হবে।
দাম বাড়ার বিষয়ে বিক্রেতারা দুষছেন মিল মালিকদের। তাদের মতে, মিল মালিকরা দর বাড়িয়েছেন বলেই বাড়তি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি চাল বিক্রেতা আবু রায়হান বলেন, চালের দাম বাড়ার কারণ আমরাও দেখি না, দেশে ধানের অভাব নেই, দাম কমার কথা। মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়েছেন। সেখান থেকে আমাদের বাড়তি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে। চালের দাম বাড়ার পেছনে বিক্রেতাদের কোনো হাত নেই।
গত ২৪ নভেম্বর ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর বছরব্যাপী চাহিদা, বাংলাদেশে পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, মজুত নিয়ে বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছিলেন, মানুষের অর্থনৈতিক আয় বাড়ার সঙ্গে খাদ্যপণ্যে পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন মোটা চালের পরিবর্তে সরু (চিকন) চাল খায়। এজন্য সরু চালের দাম কিছুটা বাড়লেও মোটা চাল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
সরু চালের দাম বাড়ার পর ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা তা সমাধান করেছি। এখন চালের বাজার ¯^াভাবিক। চালের বাজারে কোনো কারসাজি না হয় সে জন্য আমাদের ১০টি টিম কাজ করছে।
বাজার থেকে পেঁয়াজ উধাও!
সরকারের নানা উদ্যোগের পরেও স্থিতিশীল হয়নি পেঁয়াজের বাজার। বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির সংবাদেও কমেনি দাম। এর ওপর বেশি দাম দিয়েও মিলছে না রান্নার প্রয়োজনীয় এ উপকরণ। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সকালে বেনাপোল বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই পেঁয়াজ নেই। দুই-একটি দোকানে পেঁয়াজ পাওয়া গেলেও আগের মতোই ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে পেঁয়াজের আমদানি না থাকায় বেশি দামে কেনাবেচা চলছে। তবে চোরাই পথে পেঁয়াজ এলেও বিজিবির কঠোরতায় তা দেশে প্রবেশ করতে পারছে না। ভারতে খুচরা বাজারে বর্তমানে ৭০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তারা।
বেনাপোল বাজারের বিসমিল্লাহ ভাণ্ডারের মালিক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বাজারে পেঁয়াজ নেই। আমাদের মোকাম থেকে ১৮০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। এরপর পরিবহন ও কুলি-সহ অনেক খরচ আছে। তাই বাধ্য হয় ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।
একই কথা বলেন আনন্দ ভাণ্ডারের মালিক হযরত আলী। তবে আড়তদারদের কাছে বেশি দামে পেঁয়াজ কেনার মেমো দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, বাজারে চোরাইপথে কিছু ভারতীয় পেঁয়াজ আসছে। সেই পেঁয়াজও বাড়তি দামেই বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বিদেশ থেকে যে পেঁয়াজ স¤প্রতি আমদানি হয়েছে সে পেঁয়াজ এখনও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আসেনি। তাই বাজারে পেঁয়াজের সংকট রয়েছে।
বেনাপোল বাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মোকাম থেকে পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে কিনছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে এনে সে পেঁয়াজ বিক্রি করছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। এটা অতিরিক্ত। সর্বোচ্চ ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় তা বিক্রি করতে পারে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লুটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এই ব্যবসায়ী।
যশোরের শার্শা উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মণ্ডল বলেন, শুনেছি শার্শা উপজেলার সব বাজারে পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁয় ধানের দাম কমায় হতাশ কৃষক
এদিকে আমন ওঠার আগের সময় নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে নওগাঁর হাটবাজারে ধানের দাম ছিল চড়া। কৃষকদের আশা ছিল, আমন ধানের দামও এবার হয়তো ভালো পাওয়া যাবে। কিন্তু আমনের সরবরাহ বাড়তে থাকায় পাল্টে যায় বাজারের চিত্র। গত এক সপ্তাহে নওগাঁর বিভিন্ন হাটবাজারে নতুন ধানের দাম প্রতি মণে কমেছে ১০০-১২০ টাকা পর্যন্ত। বোরোর পর আমন ধানের দাম কমে যাওয়ায় হতাশ কৃষক।
জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। জেলায় মোট আমনচাষির সংখ্যা ৭৭ হাজার ২২৫ জন। এ বছর ১২ লাখ ৬৭৪ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের ল¶্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ।
নওগাঁর অন্যতম বড় ধানের মোকাম পতœীতলা উপজেলার মধইল বাজার। ওই বাজারে সপ্তাহের প্রতিদিন ধান কেনাবেচা হয়। আজ শুক্রবার সকালে ওই বাজারের আড়তদার ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারটিতে প্রতি মণ মোটা জাতের ¯^র্ণা-৫ ও ¯^র্ণা-৫১ (হাইব্রিড ¯^র্ণা) ধান মানভেদে ৬০০ থেকে ৬১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরু জাতের শম্পা কাটারি ধান বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ৯৮০ টাকায়।
পতœীতলা উপজেলার আকবরপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম (৫৫) বাজারে এসেছিলেন ধান বিক্রি করতে। কিন্তু তিনি নগদ টাকায় ধান বিক্রি করতে পারেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মলিন মুখে তিনি বলেন, ‘সেই কথা আর বলো না, বাবা। ১০ মণ ¯^র্ণা ধান অ্যানিছিনু। প্রতি মণ ধান মাত্র ৬০০ টাকা দিয়ে বিক্রি করনু (করলাম)। সেই টাকাও আবার বাকি। আড়তদার বলিচ্ছে, দুই-তিন পর টাকা দেবে। কিন্তু টাকাটা হামার আজকাই (আজকে) দরকার ছিল। বাড়িত কিছু তরিতরকারি কিনা লাগবে, সেই টাকা পর্যন্ত পকেটত নাই। গত বোরো মৌসুমের সময়েও এই রকম সমস্যায় পড়িছিনু (পড়েছিলাম)। এভাবে চললে হামরা কৃষকেরা বাঁচমু ক্যামনে।’
দেলওয়ার হোসেন নামের এক কৃষক বলেন, ‘ধান আবাদ করে হামাগেরে গলাত কাঁটা লেগে গেছে। ৬০০ টাকা হিসেবে ধান বিক্রি করায় প্রতি মণ আমন ধানে কম হলেও ১৫০ টাকা লোকসান হবে। কৃষকের দিকে চ্যায়ে দ্যাখে না। কৃষকেরা লোকসান গুনতে গুনতে নিঃ¯^ হয়ে গেলেও কারও কিছু আসে যায় না।’
মেসার্স রেখা ধান আড়তের ¯^ত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম পড়তি। গত এক-দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ ধানের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। শুরুতে প্রতি মণ ¯^র্ণা জাতের ধান ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এখন সেই ধান ৬০০ থেকে ৬১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শম্পা কাটারি ধানের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু সেই ধানও দাম কমতে কমতে ৯৫০ থেকে ৯৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বেশ কয়েকজন ধানের আড়তদার জানান, চালকলের মালিকেরা ধান কেনা কমিয়ে দেওয়ায় তাঁরা কৃষকদের কাছে ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এখন বাজারে ধানের সরবরাহ বেড়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় ধানের দাম কমে গেছে।
ধান কেনা কমিয়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘অন্যান্য অনেক ব্যবসার মতো চালকলমালিকদের ব্যবসাও সাইক্লিং পদ্ধতিতে চলে। অর্থাৎ চাল বিক্রি করে টাকা পেলে সেই টাকা দিয়ে চালকলমালিকেরা ধান কেনে। কিন্তু এই মুহূর্তে মোকামে চাল বিক্রি কমে গেছে। চাল বিক্রি করতে না পারায় চালকলমালিকেরা ধান কিনতে পারছেন না। এ জন্য বাজারে ধানের দাম কমে গেছে। তবে সরকার কৃষকদের লাভবান করতে ৬ লাখ মেট্রিক টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সংগ্রহ অভিযান পুরোদমে শুরু হলে বাজারে হয়তো কিছুটা প্রভাব পড়ত। কিন্তু এখন পর্যন্ত নওগাঁয় ধান সংগ্রহ অভিযান শুরুই হয়নি।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারিভাবে এই জেলায় ১৯ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন ধান কেনার কার্যক্রম শুরুই হয়নি। জেলার নিয়ামতপুর, বদলগাছী ও ধামইরহাট উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়ে গেছে। এ ছাড়া অধিকাংশ ইউনিয়নে কৃষকদের কাছ থেকে তালিকা না পাওয়ায় লটারিই করা হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গোলাম ফারুক হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘নওগাঁর ১১টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলা ছাড়া ১০টি উপজেলায় লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করে ধান সংগ্রহ করা হবে। সদর উপজেলার কৃষকের অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। প্রশাসনের কাছ থেকে তালিকা না পাওয়ায় ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করতে দেরি হচ্ছে। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জেলার সব ইউনিয়নে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে।’
এলাচের কেজিতে বাড়লো ৬০০ টাকা
হঠাৎ উত্তাপ ছড়াচ্ছে মসলা জাতীয় পণ্য এলাচ। পর্যাপ্ত জোগান থাকার পরও খুচরা বাজারে হঠাৎ এই পণ্যটির কেজিতে প্রায় ৬০০ টাকা বেড়েছে। তবে, পাইকারি বাজারে এলাচের কেজিতে মূল্য ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এলাচের মূল্য এমনিতেই চড়া থাকে। আর ক্রেতাদের অভিযোগ, এ সময়ে বিয়ে, মেজবান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের খাবারে অতিরিক্ত চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন।
এদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন মূলত এলাচের মূল্য বেড়েছে ভারতে এই পণ্যটির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে। মসলার পাইকাররা জানান, ভারতের কেরালায় গত বছরের বন্যা ও এ বছরের খরায় এলাচের উৎপাদন ব্যাপক কমেছে। এছাড়া দেশটিতে স¤প্রতি ঝড়ে এলাচসহ প্রচুর ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে এলাচের বড় রফতানিকারক দেশ গুয়েতেমালার ওপর চাপ পড়েছে। যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এই পণ্যটির মূল্য বেড়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে এলাচের মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশেও এলাচের মূল্য বেড়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে এলাচের সংকট দেখা দিয়েছে। ভারতেও এলাচের মূল্য বেড়ে গেছে। আমাদের দেশে পাইকারি বাজারে এলাচের মূল্য কেজিতে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।’
এদিকে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশ অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ নভেম্বর প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ২৪০০ টাকায়। আর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে অর্থাৎ শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকায়।
টিসিবির তথ্য বলছে, দুই দিনের ব্যবধানে এই পণ্যটির মূল্য বেড়েছে ২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আর গত বছরের ২৯ নভেম্বর প্রতিকেজি এলাচের মূল্য ছিল ১৫৫০ থেকে ২০০০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে এই পণ্যটির মূল্য বেড়েছে ৮৩ দশমিক ১০ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, মিষ্টি বা ঝাল সব রকম খাবার তৈরিতে এই পণ্যটির ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থকে।
জানতে চাইলে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘এলাচের মূল্য এভাবে যারা বাড়িয়েছেন, তারা মূলত অতি মুনাফালোভী।’ তার মতে, ‘বাজারে কোনও প্রতিযোগিতা না থাকায় ব্যবসায়ীরা যে যার মতো যেকোনও পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ভোক্তাদের সমস্যা হলেও তারা (ব্যবসায়ীরা) ঠিকই পার পেয়ে যাচ্ছেন।’
বাংলাদেশ মসলা ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যানুযায়ী, বছরে দেশে ৩ হাজার টন এলাচের চাহিদা রয়েছে। তবে, মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেকই বিক্রি হয় কোরবানির ঈদ ঘিরে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাস পর্যন্ত এক বছরে এলাচ আমদানি হয়েছে ৬৮৭৮ টন। যার কেজিপ্রতি মূল্য পড়েছে ৫৭৮ টাকা।
দাম কমছে সবজির
শীতকালীন শাক-সবজি ফুলকপি, পাতাকপি, মুলা, শালগম, শিম, পালংশাক, মুলাশাক, সরিষা শাকের সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে কিছু কিছু সবজির দাম কমতে শুরু করেছে।
ইতোমধ্যে অর্ধেকে নেমেছে শিমের দাম। পাকা টমেটোর দাম কেজিতে কমেছে ৩০ টাকার বেশি। তবে পেঁয়াজ ¯^স্তি দিচ্ছে না। পেঁয়াজের কেজি এখনও ২০০ টাকার ওপরে রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালীন শাক-সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। সামনে সরবরাহ আরও বাড়বে। ফলে সবজির দাম আরও কমবে।
এদিকে কিছু সবজির দাম কমলেও এখনও টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বরবটি, শসা, গাজরের দামে ¯^স্তি মিলছে না। এ সবজিগুলো এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি শিম ৫০-৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আর কারওয়ানবাজারে পাইকারিতে শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা।
কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, গত সপ্তাহে যে শিমের পাল্লা (৫ কেজি) ৩০০ টাকা বিক্রি করেছি, আজ (গতকাল) তা ১৮০-২০০ টাকা পাল্লা বিক্রি করছি। সামনে শিমের দাম আরও কমবে। কিছু দিনের মধ্যেই শিমের পাল্লা ৫০ টাকায় চলে আসবে।
বাজারটির আর এক ব্যবসায়ী আলম বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে টাকা টমেটোর দাম কমেছে। এর কারণ বাজারে এখন কাঁচা টমেটোর পাশাপাশি দেশি পাকা টমেটোও আসছে।
তিনি জানান, গত সপ্তাহে ৪০০ টাকা পাল্লা বিক্রি হওয়া টমেটো এখন ২৮০-৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ হিসাবে কেজিতে টমেটোর দাম কমেছে ২০-২৫ টাকা।
এদিকে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০-১২০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা টমেটোর দাম কমেছে ৩০ টাকার ওপরে।
খিলগাঁওয়ে ব্যবসায়ী খায়রুল বলেন, শিম, টমেটো, মুলা, শালগমের দাম কমতে শুরু করেছে। এখন দিন যত যাবে, আস্তে আস্তে সব ধরনের সবজির দাম কমবে। অনেক সবজি ৩০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাবে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে নতুন আসা গোল আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০-১০০ টাকা। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা কেজি, গত সপ্তাহেও সবজিটির দাম একই ছিল। ফুলকপি ও বাঁধাকপি আগের সপ্তাহের মতো ৩০-৪০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। পেঁপেও আগের মতো ৩০-৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
তবে সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ৮০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম কমে ৪০-৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। মুলার কেজি ৫০ টাকা থেকে কমে ২০-৩০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে। করলা আগের মতো ৬০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
রামপুরার বাসিন্দা শামীম বলেন, এখন শীতের সবজির ভর মৌসুম। বাজারে সব ধরনের শীতের সবজি রয়েছে। ¯^াভাবিকভাবেই সব ধরনের সবজির দাম কমার কথা। শিম, মুলার দাম কিছুটা কমেছে, কিন্তু যে হারে সবজির দাম কমার কথা সে হারে কমেনি। এখন ছোট ছোট এক পিস ফুলকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০০-২৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের এই দামের বিষয়ে হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী জসিম বলেন, শ্যামবাজারে এখন পেঁয়াজ কম। শুনছি কিছুদিনের মধ্যেই নতুন পেঁয়াজ আসবে, তখন হয়তো দাম কমবে। নতুন পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

A House of M.R.Multi-Media Ltd
Design & Development By ThemesBazar.Com