ডেস্ক নিউজ: রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো এবং একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে মঙ্গলবার রাতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার ওই হামলায় ১২ জন নিহত এবং অনেকেই আহত হয়েছে বলে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রায় চার বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষের আলোচকরা সরাসরি বৈঠক করার কয়েকদিন পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া ইউক্রেনে এই ড্রোন হামলা চালায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান,
‘খারকিভ অঞ্চলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ২০০ যাত্রী বহনকারী একটি ট্রেনের একটি বগিতে রাশিয়া ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার ওই ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে এক পোস্টে একটি ট্রেনের বগিতে বেসামরিক
নাগরিকদের ওপর হামলাকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এর পেছনে কোনো সামরিক যুক্তি নেই এবং থাকতে পারে না। তিনি এই ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে উল্লেখ করে রাশিয়ার হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
প্রসিকিউটররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুনে জ্বলতে থাকা একটি বগির ছবি পোস্ট করেছে। আঞ্চলিক জরুরি পরিষেবাগুলো পরে জানায় যে, আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।
আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা শহরে ৫০টিরও বেশি রাশিয়ান ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত এবং ৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৃষ্ণ সাগরের এই শহরটিতে রাশিয়ান বাহিনী নিয়মিতভাবে হামলা চালিয়ে আসছে।
আঞ্চলিক গভর্নর ওলেগ কিপার বলেন, একজন গর্ভবতী নারীসহ দুই জন নারী এবং দুই মেয়ে আহত হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এএফপি-র এক সাংবাদিক জানান, তিনি একটি আবাসিক ভবনের ধসে পড়া সামনের অংশ এবং উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ভুক্তভোগীদের খোঁজ করতে দেখেছেন।
জেলেনস্কি বলেন, এই বোমাবর্ষণ শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং যুদ্ধ শেষ করতে মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘এখনও চলমান এই ধরনের প্রতিটি রাশিয়ান হামলা কূটনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে এবং এই যুদ্ধের অবসানে সহায়তাকারী অংশীদারদের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।’
যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনার জন্য গত সপ্তাহে রাশিয়া ও ইউক্রেনের আলোচকরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৈঠক করার পরও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। এসব হামলায় তীব্র শীতের মধ্যে ইউক্রেনের বহু মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।


