‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ পুনরুল্লেখ করে কর্মসংস্থান, ফ্যামিলি কার্ড ও ভোট রক্ষার অঙ্গীকার
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
সিলেটের পর মৌলভীবাজারের শেরপুরে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে ‘ধানের শীষ’ মার্কায় ভোট চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে শেরপুর উপজেলার আইনপুর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি দেশ পুনর্গঠন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং ভোট চুরির ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে তারেক রহমান জনসভার মঞ্চে প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন। এর আগে দুপুর ২টায় সিলেটের জনসভা শেষ করে তিনি মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওয়ানা হন। এটি ছিল তাঁর ধারাবাহিক নির্বাচনী জনসভার দ্বিতীয় সমাবেশ।
জনসভায় বক্তব্যে তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার সময় দেওয়া ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’—এই ঘোষণার পুনরুল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই তাঁর মূল পরিকল্পনার অন্যতম অংশ। প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বিদেশি ভাষা শিক্ষা দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা বিদেশে গিয়ে সম্মানজনক ও উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারে।
তিনি বলেন, দক্ষতা ছাড়া বিদেশে গেলে আয় কম হয়; কিন্তু প্রশিক্ষণ নিয়ে গেলে আয় বাড়ে। বিএনপি সরকার গঠন করলে সেই সুযোগ এদেশের মানুষের জন্য সৃষ্টি করা হবে।

একই সঙ্গে তিনি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। পাশাপাশি ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি সম্মানীর ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, মসজিদ ও মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত এসব মানুষ সমাজের দুঃখ-সুখে পাশে থাকেন; তাঁদের সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, দেশে আবারও ভোট চুরির ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ডিজিটাল মাধ্যম ও এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে এবং ব্যালট পেপার গায়েব করার মতো অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের কথা বলার অধিকার রক্ষায় ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই।
নাম উল্লেখ না করে তিনি জামায়াতে ইসলামীর অতীত ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, ইতিহাস থেকে তাদের সেই ভূমিকা কখনো মুছে ফেলা যাবে না। দেশবাসী বহু আগেই তাদের চিনে ফেলেছে। বর্তমানে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ওই দলের নেতাদের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। সম্ভাব্য অঘটন এড়াতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে তাদের নিরাপত্তা ও প্রটোকল বাড়ানো হোক। বিএনপি চায় না কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিক।
দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই জনসভায় মৌলভীবাজার জেলার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল—এই সাত উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে অংশ নেন। জনসভাস্থল আইনপুর মাঠ দুপুরের আগেই জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে তারেক রহমান হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হন। পর্যায়ক্রমে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।



